নিজস্ব প্রতিনিধি,শান্তিপুর: চাকরি ছেড়ে বিগ্রহের অঙ্গরাগ, জন্মাষ্টমীতে জোর কদমে চলছে কাজ। মহিলাদের স্বনির্ভর করার বার্তাও দিলেন শান্তিপুরের ইলিশকা ।”শ্রী কৃষ্ণ করুনা সিন্ধু, দিন বন্ধু জগতপতে, গোপশ্বর গোপিকা কান্ত রাধা কান্ত নমস্তুতে”। কি ভাবছেন হটাৎ কৃষ্ণ মন্ত্র কেন উচ্চারিত হচ্ছে ? হবে নাই বাঁ কেন বলুন? আজ সোমবার যে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। আর এই জন্মাষ্টমী উৎসবকে কেন্দ্র করে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মানুষদের এখন তুঙ্গে তৎপরতা।তবে এখন এক কৃষ্ণ ভক্ত তরুণীর কথা এবার জেনে নিন। নদিয়ার শান্তিপুর বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মানুষের অন্যতম পিঠস্থান। এখানে পদধূলি পড়েছে স্বয়ং চৈতন্য মহাপ্রভুর। বৈষ্ণব গুরু অদ্বৈতাচার্যের সাধনাস্থল এই শান্তিপুর। সেই শান্তিপুরেই এবার শ্রী কৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ এবং গোপালের অঙ্গরাগ করেন শান্তিপুরের এক নারী।
শান্তিপুর(Shantipur) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুচন্দ্রা বিশ্বাস। ছোট থেকে পড়াশোনায় ভালোই মন ছিল। তারপর ২০১৯ সালে রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স এর ডিগ্রি অর্জন করে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিকা হিসেবে কর্ম জীবন শুরু। তারপর ২০২০ সাল। চারিদিকে করোনা মহামারী। তখন একদিন গুরুর কাছে দীক্ষা নেন সূচন্দ্রিমা (Suchandra) ওরফে ইলিশকা। যদিও ছোট থেকে আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল তার। এরপর গুরুর কথায় প্রথম বিগ্রহের অঙ্গরাগের কাজ শুরু করা। রং, তুলি নিয়ে একের পর এক বিগ্রহের নতুন রূপ প্রতিষ্ঠা করছে ইলিশকা। শুধু শান্তিপুর নয়, শান্তিপুরের বাইরের থেকেও এক এক করে অঙ্গরাগের বরাত আসে তার কাছে। ধীরে ধীরে কাজে চাপ বাড়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকতার কাজও ছাড়তে হয় তাকে। তবে বর্তমানে শুধু শান্তিপুর নয় ,সুদূর লন্ডন, আমেরিকা, বাংলাদেশের মতো দেশ থেকেও বিগ্রহের অঙ্গরাগের বরাত আসছে তার কাছে। তবে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী, তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে জোর কদমে চলছে বিগ্রহের অঙ্গ রাগের কাজ। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন উচ্চতার বিগ্রহ এখন ইলিশকার তুলির টানে নবরূপে সজ্জিত হয়।
তার সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন মন্দিরে।তবে এই কাজ করে খুশি সূচন্দ্রিমা ওরফে ইলিশকা। চাকরি ছেড়ে এই কাজ বিষয়ে বলতে গিয়ে তার বক্তব্য এই কাজ তার বেশি ভালো লাগে। আর চাকরি ছেড়ে এই কাজ করায় তার কোনো দুঃখ নেই। বরং ইলিশকার বার্তা এই কাজ করে বর্তমানে সাবলম্বী হয়েছে সে। আন্তর্জাতিক স্তরে তার কাজ পৌঁছেছে। এটাই বড় পাওয়া। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেছে সে। ইলিশকা জানাচ্ছেন, নারীদের সাবলম্বী করতে তিনি সাহায্য করবেন। যদি কোনো মহিলা বা বর্তমান প্রজন্মের মেয়েরা এই কাজ করতে চায় তাঁদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে রাজি আছে সে। তাতে করে নারী সমাজ আরও সাবলম্বী হবে।তবে চাকরি ছেড়ে বিগ্রহের অঙ্গরাগ সঙ্গে মহিলাদের স্বনির্ভর করার যে স্বপ্ন দেখছে শান্তিপুর শহরের ইলিশকা সেটা সত্যিই অভাবনীয়। এখন দেখার ইলিশকার এই কাজ দেখে ভবিষ্যত প্রজন্ম কতটা আগ্রহী হয়। তবে নারীদের স্বনির্ভর করার যে উদ্যোগ শান্তিপুরের সূচন্দ্রিমা ওরফে ইলিশকা নিয়েছে সেই ভাবনাকে কুর্নিশ জানাই আমরাও।