নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনার সময়ে গোয়েন্দারা যাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রেফতার করেছিলেন সেই কুখ্যাত জঙ্গিদের মুক্তির নির্দেশ দিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। আজ মঙ্গলবার সকালেই দেশের কারা প্রধানকে ওই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর পরেই যশোর-চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি জামায়তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসার উল ইসলাম-সহ একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যারা ছাড়া পেয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলেন আল আমিন।
কারা সূত্রে খবর, জামায়াতুল মুজাহিদিন (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এটিবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), শাহাদত-ই-আল হিকমা ও হিযবুত তাহরির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে প্রায় ১ হাজার ৮১৪ জনকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব, সিটিটিসি-সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নরসিংদী, জয়পুরহাট, ফরিদপুর-সহ দেশের বিভিন্ন জেলে বন্দি ছিল ওই কুখ্যাত কঙ্গিরা। সেনাপ্রধানের নির্দেশের পরেই বিভিন্ন জেল থেকে বন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেএমবির ২৮, জেএমজেবির ১৮, হরকাতুল জিহাদের ২২, শাহাদত-ই-আল হিকমার ১২, হিযবুত তাহীরের ২২, আল হিকমার ১২, আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের ৫, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ১৮, হিযবুত তাওহীদের ১৫, লস্কর-ই-তৈয়বার ৪, জয়শ-ই-মোহাম্মদের ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সেনা সূত্রে খবর, সোমবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ওপরেই আমেরিকার নির্দেশে সেনা সদর দফতরে বিএনপি ও জামায়াত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। ওই বৈঠকেই বিভিন্ন জেলে বন্দি দলীয় নেতাদের পাশাপাশি জামায়াতুল মুজাহিদিন (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এটিবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), শাহাদত-ই-আল হিকমা ও হিযবুত তাহরির মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান। সেই দাবি মেনে নেন সেনাপ্রধান।