নিজস্ব প্রতিনিধি, দিঘা : পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের নিয়ম মেনে জগন্নাথের কাঠের বিগ্রহে সম্পন্ন হয়েছে প্রাণপ্রতিষ্ঠা। নিমকাঠের তৈরি বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত রাজেশ দ্বৈতাপতি। তাঁর সঙ্গে এদিন প্রাণপ্রতিষ্ঠায় ছিলেন আরও পুরোহিতরা। কাঠের বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর হয় পাথরের জগন্নাথে প্রাণপ্রতিষ্ঠা। একসঙ্গে রাধাকৃষ্ণের পাথরের মূর্তিতেও প্রাণপ্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়।
প্রাণপ্রতিষ্ঠার মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল মাত্র ২০ মিনিট। বুধবার সকাল ১১:১০ থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত মাহেন্দ্রক্ষণে দেবতার সর্বাঙ্গে কুশ স্পর্শ করানো হয়। প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর জগন্নাথের স্নান এবং বস্ত্র পরিধানের প্রক্রিয়া। প্রভুকে অর্পণের জন্য তৈরি হয়েছে ৫৬ ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিল দিঘা। সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বুধাবার উদ্বোধন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই উদ্বোধন এই মন্দিরের। দ্বারোদঘাটনের আগে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাস্তুযজ্ঞ থেকে মহাযজ্ঞের আয়োজন হয়েছে। সেখানেই রাজ্যবাসীর জন্য পুজো দিয়েছেন তিনি।
দিঘার জগন্নাথ দেবের মন্দিরটি তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ কলিঙ্গ শৈলীতে। ঠিক যেমন পুরীতে রয়েছে তেমনভাবেই তৈরি হয়েছে এই মন্দির। মঙ্গলবার দুপুরের যজ্ঞে পূর্ণাহুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যজ্ঞের সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসেছেন ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পূর্ণাহুতির পরে পুরোহিতদের হাতে শরবত তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পূর্ব মেদিনীপুর সফরে গিয়ে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর করোনাকালে মন্দির নির্মাণ বন্ধ ছিল। পরে তা শুরু হয়। রাজস্থান থেকে অন্তত ৮০০ কারিগর এনে কাজ করা হয়েছিল। মূল মন্দিরে সিংহাসনে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মূর্তি। এছাড়া থাকছে ভোগমণ্ডপ, নাটমন্দির, জগমোহন এবং গর্ভগৃহ।