নিজস্ব প্রতিনিধি : মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় ধৃত অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আসানসোলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দুই)তানিয়া ঘোষ। সেইসঙ্গে নির্যাতিতাকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে প্রায় ৪ বছর আগে। এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে ধর্ষণ করে তাঁরই এলাকার বাসিন্দা। এরপর পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন ওই তরুণী। পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হলে নির্যাতিতার মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সালানপুর থানার পুলিশ। তার কয়েক মাস পর মৃত সন্তান প্রসব করেন ওই তরুণী।ধৃত ব্যক্তিকে বায়োলজিক্যাল ফাদার সাব্যস্ত করতে বড় ভূমিকা নেয় মৃত সদ্যোজাতর ডিএনএ পরীক্ষা। ধর্ষণের ঘটনার চার বছর পর সোমবার ধৃত রবি তুড়ি ওরফে গুটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত।
এই নিয়ে সরকারি আইনজীবী তাপস উকিল জানান, ২০২০ সালের ১১ জুলাই সালানপুর থানায় একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার মা। ওই দিনই মেয়ের পেটে ব্যথা হলে তাঁকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান তিনি। পরীক্ষা করে জানা যায়, ওই তরুণী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর মাকে জানান, এলাকার বাসিন্দা রবি তাঁকে জোর করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এমনকী তাঁকে হুমকিও পর্যন্ত দেওয়া হয়। তাই সে এতদিন মুখ খুলতে পারেন নি বলে জানান ওই তরুণী। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন মনোবিদ–সহ ১৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে দোষী ব্যক্তিকে।
সরকারি আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক নির্যাতিতার জন্য ভিকটিম ওয়েলফেয়ার ফান্ড থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন।