নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় এবার বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল আসানসোলের যুবক। ইউপিএসসি’র ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল সার্ভিস (আইএসএস) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করলেন আসানসোলের সিঞ্চনস্নিগ্ধ অধিকারী। এই যুবকের সাফল্যে খুশি আসানসোলবাসী।
জানা গিয়েছে, সিঞ্চন আসানসোলের ইসমাইল মাদার টেরেজা সরণির বাসিন্দা। তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন ছাত্র। পরে কলকাতার আইএসআই থেকে স্ট্যাটিস্টিক্সে স্নাতকোত্তরের পড়া শেষ করেন। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। বাবা প্রদীপ অধিকারী মাইন্স বোর্ড অব হেলথের কর্মী। মা সুজাতাদেবী গৃহবধূ। কঠিন অধ্যবসায়ের পর এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্বটাই সিঞ্চন দিতে চান তাঁর বাবা-মাকে। প্রদীপবাবু বলছিলেন, “ইউপিএসসিতে পাশ করা ওঁর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু দেশের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করবে, তা ভাবিনি। খুব ভালো লাগছে। শুধু পরীক্ষায় প্রথম নয়, প্রশাসক হিসাবেও যেন এক নম্বর হয়, এটাই চাইব।” মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিঞ্চন ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী। সিঞ্চনের এই সাফল্যে তারাও গর্বিত।
পাখির চোখ করে প্রস্তুতি নিয়েছে সিঞ্চন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানাচ্ছেন, নিয়ম মেনে পড়াশোনার কোনও বিকল্প নেই। তাছাড়া আরও কিছু বিষয় মেনে চলেছেন তিনি। যেমন, গত চারবছর ধরে ফেসবুক থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন এই কৃতী পড়ুয়া। বিনা কারণে সময় নষ্ট করার থেকে দূরে থেকেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয় আগেও বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন সিঞ্চন। মেডিক্যালে ১৬৮ রাঙ্ক করেছিলেন তিনি। ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অধিকার করেছিলেন সিঞ্চনস্নিগ্ধ। তবে ইউপিএসসি’র ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল সার্ভিসকেই নিজের মূল লক্ষ করেছিলেন তাতেই সাফল্য। সিঞ্চন বলেন, “যে কোনও সাফল্যই খুশি নিয়ে আসে। আমার পরিবার পাশে ছিল। অধ্যাপকদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই। কোন ক্ষেত্রে আমি কাজ করব স্বাভাবিকভাবেই এখন তা স্পষ্ট নয়। তবে যে ক্ষেত্রেই কাজ করি না কেন সেখানকার সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা করব।” পাশাপাশি সিঞ্চনের মা সুজাতা অধিকারি বলেন, “ছেলে একটা খুশির মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। ছেলের জন্য গর্ববোধ হচ্ছে। ও দেশের জন্য ভালো করে কাজ করুক এটাই চাইব।” সর্বভারতী স্তরের অন্যতম কঠিন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এহেন নজরকাড়া সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পশ্চিম বর্ধমানের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য।