পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও হুগলির চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু ভারত বিখ্যাত নয়, সমগ্র বিশ্বজুড়েই এর খ্যাতি ছড়িয়ে রয়েছে। জানা যায়, জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা নিয়ে বহুকাল ধরেই মতবিরোধ আছে। কারও মতে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এই পুজোর সূচনা হয়েছে। কারও মতে, বাংলার আদি ও প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয় হুগলিতে। কথিত রয়েছে, হুগলির সোমরা গ্রামের সোমরা বাজার অঞ্চলের অষ্টধাতুর জগদ্ধাত্রী পুজো প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম।
জনশ্রুতি আছে, একদা পাল যুগে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ান ছিলেন রামশংকর রায়। মায়ের পুজোর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। কথিত আছে আনুমানিক ১১৭২ সাল নাগাদ দেওয়ান রামশংকর রায়েরই হাত ধরে এই পুজো প্রচলিত হয়। জানা যায়, দেবী জগদ্ধাত্রী এখানে মহাবিদ্যা নামে পূজিতা হন। দেবীর বাহন সিংহ এখানে নরসিংহ রূপে প্রতিষ্ঠিত। এই মন্দিরে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাঁ-পাশে শিবের মূর্তি রয়েছে। এছাড়া, এই শিবের একটি বৈশিষ্ট্য হল, দেবাদিদেব এখানে একা নন। তিনি তাঁর কোলে চার ছেলে মেয়ে কার্তিক-গণেশ-লক্ষী-সরস্বতীকেও নিয়ে রয়েছেন। লোকশ্রুতি মতে, মন্দিরে শিবের এই প্রতিকৃতির মাধ্য়মে আগেকার দিনের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মন্দিরের সেবায়েতদের তরফে জানা গেছে, এই মন্দিরে কোনও বলিদানের নিয়ম নেই। মূলত বৈদিক মতেই এখানে পূজিতা হন দেবী জগদ্ধাত্রী। বছরভর মায়ের নিত্য পুজো হলেও, জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমীতে অষ্টধাতুর মূর্তিতে ষোড়সপচারে পুজোর আয়োজন করা হয়। জানা গিয়েছে, প্রতি বছর জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় অসংখ্য ভক্তপ্রাণ মানুষের ভিড় হয় এই মন্দিরে। নবমীতে দেবীকে ভোগ হিসেবে লুচি, পাঁচ রকমের ভাজা, পোলাও, খিচুড়ি, ছানার তরকারি ও মিষ্টান্ন ভোগ দেওয়া হয়।