নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতে আর বেশি সময় নেই। ক’টা দিন পরেই শুরু হবে জগদ্ধাত্রী পুজো। জগদ্ধাত্রী হলেন দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার আর এক রূপ, যিনি গোটা জগত্কে ধারণ করে রেখেছেন। জগদ্ধাত্রী দেবী হলেন ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী। তাঁর হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ, গলায় নাগযজ্ঞোপবীত। বাহন সিংহ করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ হস্তীরূপী অসুরের পৃষ্ঠে দণ্ডায়মান।দেবীর গাত্রবর্ণ হল উদিয়মান সূর্যের ন্যায়। সিংহের উপর আসীন দেবীর পদতলে রয়েছে হাতির কাটা মুণ্ড। জানেন কী বাংলায় প্রথম কবে কীভাবে শুরু হয় জগদ্ধাত্রী পুজো ? অনেকে বলেন কৃষ্ণনগরের রাজ পরিবারে প্রথম শুরু হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। কিন্তু আপনি জানেন কী কীভাবে শুরু হয়েছিল এই পুজো ? তবে জেনে নিন আজ ইতিহাস।
লোকমুখে শোনা যায় প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়েছিল শান্তিপুরের ব্রহ্ম শাসন এলাকায়।সময়টা তখন ছিল রাধা কৃষ্ণ চন্দ্রের আমল। শোনা যায় বাংলার নবাব তখন ছিলেন মীর কাসিম। তিনি ছিলেন মীরজাফরের জামাতা। তার সঙ্গে নবাব কৃষ্ণচন্দ্রের মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি রাজার নামে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সেই টাকা দিতে না পারায় তাকে বিহারের মুঙ্গেরে বন্দী করা হয়েছিল। ফেরার দিন ছিল বিজয়া দশমী তিনি বন্দী দশা কাটিয়ে ফিরছিলেন। সেটা ছিল দুর্গা পুজোর দশমী। পুজোয় বাড়িতে থাকতে না পারার জন্য, দুর্গাপুজোয় পুজো না হওয়ার জন্য তিনি খুবই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
তিনি আক্ষেপ করছিলেন যে দুর্গা পুজো এই বছর হবে না। কিন্তু মন থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না।একদিন রাতে তিনি রাতে স্বপ্নাদেশ পান দুর্গার বদলে পুজো হবে দেবী জগদ্ধাত্রীর।তিনিই দুর্গা,জগদ্ধাত্রী রূপে আসছেন মা দু্র্গা। দুর্গাপুজোর মতই এই পুজোতেও সপ্তমী অষ্টমী নবমী ভালো করে আয়োজন করা হয়।
এতে প্রচন্ড খুশি হয়েছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। শোনা যায় সেই সময় থেকেই ধুমধাম করে রাজ পরিবারে প্রথম এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল। কৃষ্ণচন্দ্রের গুরুদেব ছিলেন চন্দ্রচূড় তর্কচূড়ামণি।তিনিই প্রথম মা জগদ্ধাত্রীর রূপ সন্ধান করেন ও পুজোর বিধি তৈরি করেন। সেই থেকে আজও চলে আসছে জগদ্ধাত্রী পুজো।
আরও পড়ুন: জগদ্ধাত্রীর পদতলে হস্তিমুণ্ড, জানেন কী হাতির কাটা মুণ্ড আসলে কে ?
তবে মা জগদ্ধাত্রীর রূপ সন্ধান করা এতটাও সহজ ছিল না। কেউ এই রূপের বর্ণনা না দিতে পারায়,অবশেষে রাজার আদেশে চন্দ্রচূড় তর্কচূড়ামণি কামরাঙ্গা গাছের নিচে পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে ধ্যান করতে শুরু করলেন। একদিন ধ্যানে তুষ্ট হয়ে দেখা দিলেন মা। দেবীর দর্শন পেয়ে ধন্য হলেন তর্কচূড়ামণি। এভাবেই তিনি মা জগদ্ধাত্রীর প্রকৃত রূপ এর দর্শন করেছিলেন। যে রূপ তিনি দেখেছিলেন সেই রূপেই মাকে আঁকার চেষ্টা করেছিলেন। সেই রূপ ফুটিয়ে তোলা হয় প্রতিমায়।