নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলতলি : অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। স্বামী, স্ত্রী মিলে সারাদিন জরির কাজ করে ঘরে ২ মুঠো খাবারের জোগান দেন। এক কথায় নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। কিন্তু আশা রেখেছিলেন একদিন ভাগ্য ফিরবেই। সেই আশায় প্রায়ই লটারির টিকিট কাটতেন কুলতলি ব্লকের এক নম্বর মেরিগঞ্জের কেওড়ামাটাল এলাকার বাসিন্দা মুজিবর শেখ। কিন্তু কোনও দিনই ভাগ্যদেবী সহায় হয়নি। কিন্তু আচমকাই বুধবারের একটি টিকিট খুলে দিয়েছে তাঁর ভাগ্য।
একেবার ছপ্পর ফরকে লটারির টিকিটই করেছে কেল্লাফতে। গত বুধবার কচিয়ামারা বাজারের একটি দোকান থেকে লটারির টিকিট কেটেছিলেন মুজিবর। ওই টিকিটেই মুজিবর জিতে নিয়েছেন ১ কোটি টাকা। আর তাতেই খুলেছে ভাগ্য। নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাসও করতে পারছেন না। তাই টিকিটটি বার বার দেখছিলেন তিনি। সত্যি কী তাঁর কপালে জুটেছে প্রতম পুরস্কার। কোনওভাবেই যেন বিশ্বেস হচ্ছিল না। সেখানে পরেরদিন কী খাবেন, আদৌ খাবার জুচবে কিনা তা নিয়ে চিন্তা করতে হত, সেখানে ১ কোটি টাকা তো অলীক স্বপ্ন।
লটারিতে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন স্বামী স্ত্রী দুজনেই। লটারি জিতে নিরাপত্তার অভাববোধ করায় রাতেই থানায় আশ্রয় নেন মুজিবর। তিনি জানিয়েছেন, ‘জীবনটা অনিশ্চিত ছিল। অনেক অর্থকষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। লটারির টাকাটা পেলে একটা পাকাবাড়ি বানাবার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তবে অবশ্যই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কিছু টাকা গচ্ছিতও রাখবেন। প্রায়শই তিনি টিকিট কাটতেন। দীর্ঘদিন পরে সর্বোচ্চ পুরস্কার জিতে ভীষণ খুশি তাঁরা।