নিজস্ব প্রতিনিধি: গুপি বাঘা যতই বলুক পায়ে পড়ি বাঘমামা, কিন্তু সবসময় কী আর বাঘমামা পায়ে পড়লেই ভিন জায়গায় যায়। এতদিন আত্মারাম খাঁচা হয়ে গিয়েছিল কুলতলির বাসিন্দাদের। রাতের ঘুম উড়েছিল। কখন কোথায় হানা দেবেন শার্দূল সর্দার সে তো বোঝা দায়! লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে ঘুম উড়েছিল স্থানীয়দের। তারপর থেকে বাঘ নিয়ে হুলুস্থূল কাণ্ড। বন দফতরের পক্ষ থেকে ব্যাঘ্রটিকে নিজভূমে ফেরানোর জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে মিলল সাফল্য। রবিবার জঙ্গলে ফিরে গিয়েছেন দক্ষিণরায়।
শনিবার কুলতলির দেউলবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন এক মৎস্যজীবী দাবি করেন, মাছ ধরার সময় একটি বাঘকে সাঁতরে গ্রামে আসতে দেখেন তিনি। এই খবর সামনে আসা মাত্র গ্রামজুড়ে ছড়ায় আতঙ্ক। গ্রামবাসীদের তো আত্মারাম খাঁচা হয়ে যাওয়ার জোগাড়। খবর দেওয়া হয় বন দফতরকে। বনকর্মীরা এসে এলাকায় নজরদারি চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করেন। রাতে এলাকায় বসে পাহারাও।
বনদফতরকে গ্রামবাসীরা জানিয়েছিলেন, নদী পেরিয়ে গ্রামের একটি ধান ক্ষেতে ঢোকে বাঘটি। এর পর প্রায় দশ বিঘা জমি জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেন বনকর্মীরা। পরে ওই জায়গা থেকে কিছুটা দূরে অন্য একটি জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়। এবার সেখানেও চলে নজরদারি, বসে পাহাড়া। কিন্তু যার জন্য এত তোরজোড় সেই বাঘ কোথায়! তার দেখা নেই।
এ দিকে নদীতে জোয়ার আসায় এটাও বোঝা যাচ্ছিল না যে বাঘ নদী পেরিয়ে জঙ্গলে চলে গিয়েছে কিনা। কারণ জোয়ারের জলে বাঘের পায়ের ছাপ ধুয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। শেষ পর্যন্ত দুপুরের দিকে ভাটা আসার পর নদী চরে পায়ের ছাপ পরীক্ষা করে বনকর্মীরা গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, দক্ষিণরায় ফিরেছেন তার জঙ্গলে পুরনো ডেরায় ।