নিজস্ব প্রতিনিধি: আড়কাঠিদের ষড়যন্ত্রে নিস্ফলাই রইল রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠক। বুধবার গভীর রাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, কর্মবিরতি উঠছে না। রাজ্য সরকার সব দাবি না মেনে নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জুনিয়র চিকিৎসকদের নেতা তথা এসইউসি’র ছাত্র সংগঠন ডিএসও’র রাজ্য কমিটির অন্যতম পদাধিকারী অনিকেত মাহাত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আন্দোলনের ৪০ দিনের মাথায় এসে স্বাস্থ্য সচিবের অপসারণ ও বাকি দুই দাবিতে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক ছিল আমাদের। সব দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কার্যবিবরণী নিয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে কিছু জায়গায় সহমত তৈরি হয়নি। যত ক্ষণ না দাবি পূরণ হচ্ছে আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’
গত ৮ অগস্ট আরজি করের এক তরুণী চিকিৎসকের খূনের পরেই নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তুলে কর্মবিরতিতে নামা রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের কয়েক হাজার জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের সঙ্গে সহমর্মিতা জানিয়ে কাজকর্ম শিকেয় তুলে আন্দোলন শুরু করে সিপিএম প্রভাবিত নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের একাংশ। প্রথমে আরজি কর চত্বরে ডেরা বেঁধে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। পরে সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ডেরা বাঁধেন। সেই সঙ্গে পাঁচ দফা দাবিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘাতের রাস্তায় হাঁটে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সিপিএম, নকশাল মনোভাবাপন্ন পিডিএসএফ এবং এসইউসিআইয়ের ছাত্র সংগঠন ডিএসও’র সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক নেতারা। আর আড়কাঠি হয়ে ওই আন্দোলনে মদত জোগান তথাকথিত সিপিএম ও বিজেপি ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত বেশ কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বেওসায়ী।সেই সঙ্গে সিপিএমকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার ক্ষেত্রে মদত জোগাতে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের মদত জোগাতে থাকেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী-দেবলীনা দত্ত-স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মতো টলিউডের কট্টর সিপিএমপন্থী হিসাবে পরিচিত অভিনেত্রীরা।
গত সোমবারই আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে কালীঘাটের বাড়িতে প্রায় ঘন্টা ছয়েক বৈঠক করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জুনিয়র চিকিৎসকদের সিংহভাগ দাবি-দাওয়া মেনে নেন তিনি। মঙ্গলবার সরিয়ে দেওয়া হয় কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্ত, রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকে। তবে ওই দাবি মেনে নেওয়ার পরেই যাতে জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতি না তোলেন তার জন্য সক্রিয় হয় সিপিএম ও নকশালপন্থী হিসাবে পরিচিত আড়কাঠিরা।
বুধবার সকালেই ফের রাজ্য সরকারের সঙ্গে বসতে চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ইমেল পাঠান আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। সন্ধে সাড়ে ছয়টায় জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে নবান্নে পৌঁছে যান আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের ৩০ সদস্য। সভার কার্যবিবরণী লেখার জন্য তাঁদের সঙ্গে হাজির ছিলেন দুজন স্টেনোগ্রাফারও। নবান্নের সভাঘরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় বৈঠক। দু’ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলে বৈঠক। জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যসচিবের বৈঠকে ছিলেন টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। রাত পৌনে দশটা নাগাদ শেষ হয় বৈঠক। তার পরে লেখা হয বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস)।