নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই বাড়ছে জটিলতা। কে আসল দোষী সেই নিয়ে তৈরি হচ্ছে ধোঁয়াশা। আপাতত পুলিশের জিম্মায় আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। কিন্তু যে ঘটনার রেশ ধরে এত বড় দুর্নীতি চক্র ফাঁস হয়েছে সেই তিলোত্তমা কাণ্ডের আসল দোষীদের নাগাল পায়নি পুলিশ। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাও এই বিষয়ে রয়েছে পিছিয়ে। গত ৯ই আগস্টের ঘটে যাওয়া ঘটনার কুলকিনারা আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল প্রমাণ লোপাট।
আরও পড়ুনঃ নয়া পালক মিশরের মুকুটে, ম্যালেরিয়ামুক্ত দেশের তকমা দিল WHO
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সন্দীপের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া হার্ডডিস্কগুলিতে থাকা তিলোত্তমা কাণ্ডের পরবর্তী সময়ের কিছু ছবি ও ফুটেজ ডিলিট করা হয়েছে। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেছেন টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। যদিও বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে। এরইমধ্যে উঠে আসছে এক নতুন তথ্য। তিলোত্তমা কাণ্ডের যাবতীয় ছবি ও ফুটেজ ডিলিটের পিছনে নাকি রয়েছেন খোদ আরজি করের কিছু ডাক্তারি পড়ুয়ারা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে পারছেন না কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিবিআই আধিকারিকরা দেখেছেন যে সেমিনার হলের এক প্রান্তে থাকা স্টেজের উপর পড়ে রয়েছে নির্যাতিতার দেহ। প্রায় ১৫ জন নিজেদের ইচ্ছামতো ওই স্টেজের উপর ও তাঁর চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কয়েকজন ঘোরাঘুরি করছেন নির্যাতিতার দেহের কাছে। ইচ্ছামতো ছবি ও ভিডিয়ো তুলছেন।
আরও পড়ুনঃ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের লোভে বানানো হল ২৪৬ ফুটের সুদীর্ঘ কাবাব
এতজন একসঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার ফলে একাধিক ব্যক্তির হাত ও পায়ের ছাপের মধ্যে থেকে যে আসল অভিযুক্তর আঙুল ও পায়ের ছাপ নষ্ট হয়ে যাবে, তা হিসাবে বুঝতে পেরেছিলেন এক পুলিশ অফিসার। এ ছাড়াও এতজন ব্যক্তি একসঙ্গে থাকার ফলে তথ্য ও প্রমাণ লোপাটেরও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই কি দুর্ঘটনা চত্ত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এতজন ছাত্র-ছাত্রী? উঠছে প্রশ্ন। তাঁদের মধ্যে আবার একটি অংশ তিলোত্তমা কাণ্ডের পর জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনেও যোগ দিয়েছেন। ফলে পুরো ঘটনাটাই কি তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? আদৌ প্রমাণ লোপাটের পিছনে জুনিয়র ডাক্তারেরা রয়েছেন কিনা সেই বিষয়টি সিবিআইয়ের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।