নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর কাণ্ডে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের ফাঁসির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য সরকার। সোমবার (২০ জানুয়ারি) রাতে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ নিজের হ্যান্ডলে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আরজি কর কাণ্ডকে শিয়ালদহ আদালতের বিচারপতি অনির্বাণ দাস বিরলের মতো বিরলতম অপরাধ হিসাবে মানতে রাজি না হওয়ায় খানিকটা বিস্ময় প্রকাশও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ফের একবার তরুণী চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনাকে জঘন্য অপরাধ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
In the R.G. Kar junior doctor’s rape and murder case, I am really shocked to see that the judgement of the Court today finds that it is not a Rarest of Rare case!
I am convinced that it is indeed a rarest of rare case which demands capital punishment. How could the judgement…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 20, 2025
এদিন শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বাণ দাস আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছেন। সেই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। সিবিআইয়ের তরফে অপরাধকে বিরলের মধ্যে বিরলতম আখ্যা দিয়ে আসামির চরম সাজা চাওয়া হয়েছিল। যদিও সিবিআইয়ের আইনজীবির যুক্তি মানতে রাজি হননি বিচারক। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের মামলা কোনও ভাবেই বিরলের মদ্যে বিরলতম নয়।’
এদিনই জেলা সফরে মুর্শিদাবাদ থেকে মালদায় যাওয়ার পথে আরজি কর মামলার সাজার খবর জানতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদার হেলিপ্যাডে দাঁড়িয়েই রায় নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়ে দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সম্পূর্ণ রায় এখনও জানি না। তবে আসামির ফাঁসির সাজা হলে খুশি হতাম’। রাত পৌনে আটটা নাগাদ নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই পোস্টে মমতা লেখেন, ‘‘আরজি করে চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে আদালত বিরলের মধ্যে বিরলতম হিসাবে না মানায় আমি স্তম্ভিত। আমি মনে করি, এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা, যাতে ফাঁসির সাজাই হওয়া উচিত। কী ভাবে বিচার শেষে একে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে মনে করা হল না? আমরা এই অত্যন্ত ভয়াবহ এবং সংবেদনশীল মামলায় অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড চাই।’
জয়নগর থেকে গুড়াপ-সহ গত কয়েক মাসে কয়েকটি ধর্ষণ-খুনের মামলায় অপরাধীর ফাঁসি হয়েছে। ওই ঘটনার কথা উল্লেখ করে মমতা লিখেছেন, ‘গত ৩/৪ মাসে, আমরা এই ধরণের অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। তাহলে, কেন এই ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি? আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি এটি একটি জঘন্য অপরাধ যার জন্য মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজন। আমরা দোষীর মৃত্যুদণ্ডের জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানাব।’