নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই দলকে বিড়ম্বনায় ফেলে বিজেপি’র হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ হানার অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। টানা বেশ কয়েকদিন চুপ থাকার পরে বুধবার ফের দলের বিরুদ্ধে ‘ফোঁস’ করলেন তিনি। সরাসরি তৃণমূল শাসিত সরকারকে নিশানা করে নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও ইশারা করেছেন। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, ‘বিজেপির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রেখেই দলনেত্রী তথা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চলেছেন ‘রাজনৈতিক দলবদলু’ সুখেন্দুশেখর রায়।
আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসার বিচারের দাবিতে গত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে আন্দোলন। অরাজনৈতিক আন্দোলনের আড়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উৎখাত করতে আসরে নেমেছেন রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে স্বঘোষিত নাগরিক সমাজ নামধারী বিভিন্ন ভুঁইফোঁড় সংগঠন এবং টালিগঞ্জের নট-নটীরাও। সেই সঙ্গে রয়েছে তৃণমূল বিরোধী এবং সিপিএম ও নকশাল প্রভাবিত একাধিক চিকিৎসক সংগঠনও। সংবাদমাধ্যমে প্রচারে থাকার লোভে অনেকেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে আসরে নেমেছেন। তার মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা নন্দীগ্রাম গণহত্যার সমর্থনে কলকাতার রাজপথে মিছিল করেছিলেন।
আজ বুধবার রাতেই এক ঘন্টা বাড়ির আলো নিভিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কট্টর বিরোধী চিকিৎসক সংগঠনগুলি। আর সেই সুযোগে ফের রাত দখলের ডাক দিয়েছে মুখোশধারী বামপন্থী ও অতি বিপ্লবী এবং গেরুয়া শিবিরের ক্যাডাররা। আর ওই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘‘রাতের দখল নেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ থাকা নাগরিকদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারও চাই।’