নিজস্ব প্রতিনিধি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা রেখেছেন। মঙ্গলবার বিকেলেই জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি নর্থ এবং দুই স্বাস্থ্য কর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কাটল না জট। ম্যারাথন বৈঠক শেষে মাঝ রাতে আন্দোলনকারীদের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, কর্মবিরতি তুলছেন না তাঁরা। তাঁদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ফের একবার আন্দোলন চেয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। চিকিৎসকদের এমন ঘোষণার ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে জটিলিতা রয়েই গেল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার ইজারা নিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা? সাধারণ মানুষের চেয়েও তাঁদের কাছে রাজনৈতিক আনুগত্য বড় হয়ে গেল? তবে সূত্রের খবর, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এসইউসিআই, সিপিএম এবং নকশালপন্থী চিকিৎসকদের এমন অনড় মনোভাবে ক্ষুব্ধ জুনিয়র চিকিৎসকদের সিংহভাগ।
গত সোমবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক সদর্থক হওয়ায় অনেকেই আশা করেছিলেন সাধারণ মানুষকে আর ভোগান্তিতে না ফেলে কাজে যোগ দেবেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু কালীঘাট থেকে ধর্না মঞ্চে ফেরার পরেই যেভাবে সিপিএম-নকশাল ও এসইউসিয়ের ক্যাডার হিসাবে পরিচিত কিঞ্জল নন্দ, অনিকেত মাহাত, দেবাশিস হালদার হুঙ্কার দিয়েছিলেন, তাতে অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, কর্মবিরতি তোলা হবে না। শুধু জিবি বৈঠকে বসার নাটক হবে। মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে আরজি করের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জুনিয়র চিকিৎসকদের আইনজীবীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কবে কর্মবিরতি তুলে কাজে যোগ দেবেন আন্দোলনকারীরা? কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের আইনজীবী।
এদিন টালবাহানা শেষে বিকেলে নাকি বৈঠকে বসেছিল জুনিয়র চিকিৎসকদের তথাকথিত জিবি বৈঠক। গভীর রাত পর্যন্ত নাকি সেই বৈঠক চলেছিল। অন্তত আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সিপিএম ও নকশালপন্থীরা তেমনটাই দাবি করেছিলেন। বৈঠক শেষে মাঝরাতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হল, কর্মবিরতি উঠছে না। যত দিন না সব দাবি মেনে নেওয়া হবে তত দিন আন্দোলন চলবে। স্বাস্থ্য সচিবের অপসারণের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজগুলির ছাত্র সংসদ দখল করে নয়া লবি গড়ে তোলা যে তাদের অন্যতম লক্ষ্য তাও স্পষ্ট হয়েছে রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়।