নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর কাণ্ডে আন্দোলনরত পড়ুয়া চিকিৎসকরা ই – মেল করে শনিবার দুপুরে যেকোনো সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যে কোন স্থানে বৈঠকে বসার ইচ্ছে প্রকাশ করে। এই মেল পাঠানোর ৫২ মিনিটের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্থান ও সময় নির্ধারণ করে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ পাল্টা ই- মেইল করেন পড়ুয়া চিকিৎসকদের। এদিকে আন্দোলনরত চিকিৎসকরা মোট ৩০ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে বৈঠক করতে চান বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কিন্তু রাজ্যের মুখ্য সচিবের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় মোট ১৫ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে এই বৈঠক হবে ,শনিবার সন্ধ্যে ছ’টায় নবান্নে নয় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন কালীঘাটে। ৩০ জন নাকি ১৫ জন এই নিয়ে নতুন করে টানা পোড়েন শুরু হয়েছে । এর আগে বৃহস্পতিবার নবান্নে যে দিন বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সেদিনও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিনিধিকে আসতে বলা হলেও বাসে করে মোট ৩০ জন প্রতিনিধি পৌঁছে গিয়েছিলেন নবান্নর সভা ঘরের সামনে। কিন্তু কোন আপত্তি না করে মুখ্যমন্ত্রী সকলকেই সেই বৈঠকে আসার জন্য অনুমতি দেন। কিন্তু তারপরেও সেই বৈঠকের লাইভ সম্প্রচার হবে কিনা সেই নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন হওয়ার পর বৈঠক বাতিল হয়ে যায়।
এরপর শনিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাজির হন সল্টলেকে জুনিয়ার চিকিৎসকদের অবস্থান বিক্ষোভ স্থলে। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী নয় একজন দিদি হিসেবে সম্বোধন করে বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে সমাধান সূত্র বের করে এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়ে চলে যান। এর কিছু পরেই জুনিয়ার চিকিৎসকরা বৈঠকে বসেন এবং তারা জানান তারা মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে বৈঠকে বসার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরপর জুনিয়ার চিকিৎসকরা রাজ্য সরকারকে মেইল করে স্থান ও সময় বৈঠকের জন্য ঠিক করার আবেদন জানান। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে, জুনিয়ার চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন। তবে নবান্নে নয়, বৈঠক হবে তার বাসভবন কালীঘাটে।শেষ পর্যন্ত জুনিয়র চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তারা যে ৩০ জন নবান্নে গিয়েছিলেন বৈঠক করতে সেই ৩০জনই যাচ্ছেন কালীঘাটে।