নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশেও কর্ণপাত করলেন না রাজ্যের তথাকথিত জুনিয়র চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে কর্মবিরতি তুলে কাজে যোগ দিলেন না। পরিবর্তে নতুন আবদার নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে সামিল হলেন। আর জুনিয়র চিকিৎসকদের ওই স্পর্ধা দেখে বিস্মিত প্রবীণ আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, ‘তিলোত্তমার বিচার চাওয়া আসলে বাহানা। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়েই সরকার বিরোধী আন্দোলন চালাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। রাজ্য সরকারের উচিত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।’
গত ৯ অগস্ট থেকে চিকিৎসা পরিষেবা শিঁকেয় তুলে সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়েছেন আরজি কর –সহ রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের তথাকথিত জুনিয়র চিকিৎসকরা। ওই আন্দোলনের ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার-হাজার রোগী। উল্টোদিকে পোয়াবারো বেসরকারি হাসপাতালগুলির। মূমূর্ষ রোগীদের পরিবারের সদস্যদের অসহায় অবস্থার পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছেন। বার বার কর্মবিরতি তুলে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য জুনিয়র চিকিৎসকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি শীর্ষ আদালতের তরফেও জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু নিজেদের কেউকেটা ভাবতে শুরু করা জুনিয়র চিকিৎসকরা সেই আর্জিতে সাড়াই দেননি। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবিচল রয়েছেন।
গতকাল সোমবারই (৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি ছিল। ওই শুনানিতেই দেশের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দেন। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে জুনিয়র চিকিৎসকরা কাজে ফিরলে তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি। তবে ডেডলাইন পেরিয়ে যাওয়ার পরে রাজ্য সরকার যদি কঠোর পদক্ষেপ নেয় তাহলে আদালতের কিছু করার থাকবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেই জল্পনা চলছিল, কর্মবিরতি তুলে জুনিয়র চিকিৎসকরা কাজে ফেরেন কিনা, তা নিয়ে। কিন্তু শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সরাসরি অমান্য করার পথেই হাঁটেন নিজেদের ‘কেউকেটা’ ভাবতে শুরু করা জুনিয়র চিকিৎসকরা। শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কাজে যোগ না দিয়ে উল্টে নতুন আবদার জানিয়ে রাস্তায় নামেন তারা। জুনিয়র চিকিৎসকদের এমন স্পর্ধায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও।