নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেয়ো রোডে চলছে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। বৃহস্পতিবার ২৮ অগস্ট সারা রাজ্য থেকে তৃণমূলের অনুসারী ছাত্র-ছাত্রীরা ভিড় জমিয়েছেন মেয়ো রোডে। এদিন মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে ভাষণ দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বিজেপির দিকে ছুঁড়ে দিলেন চ্যালেঞ্জ। মনে ভরপুর বিশ্বাস আর জনগণের ওপর অকুণ্ঠ আস্থা রেখে কার্যত এদিন মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করলেন গতবার যা আসন নিয়ে বিধানসভায় এসেছিল তৃণমূল, এবার তার থেকেও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের দল। সেই সঙ্গে বিজেপির দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, “বিজেপির ক্ষমতা থাকলে ৫০ পার করে দেখাক।”
অভিষেক মঞ্চ থেকে এদিন বারবার আক্রমণ করেছেন বিজেপিকে। সেই সঙ্গে ছুঁড়ে দিয়েছেন চ্যালেঞ্জ। বলেছেন, “বিচারব্যবস্থা, বিজেপি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন সবাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে, কিন্তু দশ কোটি বাংলা ভাষী তৃণমূলের পক্ষে। আগের বার যত আসন আমরা পেয়েছি, তার থেকে বেশি আসন নিয়ে ২০২৬ এ তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে। এবার বিজেপির ক্ষমতা থাকলে ৫০ পার করে দেখাক।” তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের মঞ্চে সর্বভারতীয় সম্পাদক বক্তব্য রেখেছেন আরজিকর কাণ্ড এবং অপরাজিতা বিল নিয়ে। কেন এখনও ওই বিল অনুমোদিত হল না তা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন সর্বসমক্ষে। তবে আরজিকর কাণ্ডে তিনি রাম অনুসারীদের সঙ্গে নাম না করে আক্রমণ শানিয়েছেন বাম অনুসারীদের দিকেও।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “গত বছর এই সময় আর জি কর ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল ছিল। আমি গত বছর এই মঞ্চ থেকেই বলেছিলাম যারা বা যে মহিলারা আর জি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে রাত দখলের ডাক দিয়েছিলেন আমি তাঁদের পাশে আছি। তবে আজ এক বছর পার করে এবং এত তদন্ত চালিয়েও সেই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে ২৪ ঘন্টা আগে একজনকে গ্রেফতার করেছিল, তার বেশি কিছু এগোয়নি। ওই ঘটনার পর রাজ্য বিধানসভায় অ্যান্টি রেপ বিল অপরাজিতা বিল পাশ করানো হয়েছিল, কিন্তু সেটাকে এখনও মান্যতা দিল না কেন্দ্র। সেদিন যারা রাস্তায় নেমেছিলেন তাঁদের অনেকের লক্ষ্য ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। তারা কি একবারও রাস্তায় নেমেছেন এই অপরাজিতা বিলকে আইনে কেন পর্যবসিত করা হচ্ছে না, কেন কেন্দ্রের সরকার সেই বিলে মান্যতা দিচ্ছে না, এর প্রতিবাদে?”
দেশ জুড়ে SIR চলছে। বিহারে SIR এর ফলে বাদ গিয়েছে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম। বাংলাদের SIR এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন বাংলার তিনি বিশেষ নিবিড় সংশোধনী অর্থাৎ SIR হতে দেবেন না। এদিন অভিষেকের কণ্ঠেও শোনা গিয়েছে এই একই কথা। তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন, “আগে মানুষ সরকার বাছতো। আর বর্তমান কেন্দ্র সরকার SIR এর নাম করে সারা দেশ জুড়ে ভোটার বাঁচছে। আজ SIR করে আমাদের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে।” তারপরেই বাংলা ভাষা নিয়ে বিজেপির আইটি সেল প্রধানের করা মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রতিবাদের সুরে বলেছেন, “যারা বলছেন বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই, বলুন এর জবাব আমরা দেবো কি দেবো না? যারা গরীব মানুষের বাড়ির টাকা আটকে রেখেছে তাদের জবাব দেবেন না? যারা জল জীবন মিশনের টাকা আটকে রেখেছে তাদের জবাব দেবেন না? SIR এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। যদি বাংলার একটা ভোটারের নামও বিজেপি কাটতে চায় তাহলে আমরা দশ লক্ষ লোক নিয়ে দিল্লিতে যাব।”
মঞ্চ থেকে অভিষেক আক্রমণ শানান সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়েও। এই বিল ‘রাতের অন্ধকারের’ সুযোগে আনা হয়েছে বলে দাগিয়ে দেন তিনি। বলেন, “রাতের অন্ধকারে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে চলে এল। এই বিল ওরা পাশ করতে পারবে না। যারা বাংলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাদের ২০২৬ এ আমরা এক ছটাক জমিও ছাড়বো না।” টিএমসিপি’র প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সেনাপতি জানিয়ে গেলেন, “আজকে যুদ্ধের দামামা বাজল। আগামী ২০২৬ সালের এই ২৮ অগস্ট আরও বড় সমাবেশ করব আমরা।” বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন তৃণমূল ফের আসছেই।