নিজস্ব প্রতিনিধি: মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধির ছেলের বিরুদ্ধে গাড়ি দিয়ে পিষে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি গতকাল হলেও আজ, শুক্রবার তা নিয়ে তুমুল তোপ দেগেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মোট পাঁচজনকে গাড়ি দিয়ে পিষে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধির ছেলে দীনেশ লোধি বলে অভিযোগ। আর তা নিয়ে আজ এক্স হ্যান্ডেলে কড়া জবাব দিয়েছেন অভিষেক।
এদিকে মধ্যপ্রদেশের পিচোর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধির ছেলে দীনেশ লোধির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। শিবপুরী জেলার কারেরা থানা এলাকায় একটি দ্রুতগামী মাহিন্দ্রা থার গাড়ি দিয়ে তিনজন মোটরবাইক আরোহী এবং দু’জন পথচারী মহিলাকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। এই দুর্ঘটনায় মোট ৫ জন আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘বিজেপি নেতারা মনে করেন, তাঁরা আইনের ঊর্ধ্বে। আর তাঁরা তাঁদের সন্তানদেরও ঠিক এমনটাই বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরিতে বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধির ছেলে তাঁর গাড়ি দিয়ে পাঁচজনকে ধাক্কা মারে এবং এরপর রাস্তা থেকে দ্রুত সরে না যাওয়ার জন্য উল্টো জখমদেরই দোষারোপ করেন।’
BJP leaders believe they are above the law. And they have raised their children to believe the same.
In Shivpuri, Madhya Pradesh, BJP MLA Pritam Lodhi’s son rammed his vehicle into 5 people, then blamed the victims for not clearing the road fast enough. He threatened bystanders… pic.twitter.com/2OIvOIRFtG
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) April 17, 2026
অন্যদিকে ওই গাড়ির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া এবং মোটরবাইকে যাওয়া ব্যক্তিদের ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। দুর্ঘটনার পর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে অভিযুক্ত দীনেশ লোধিকে আহতদের ওপরই দোষ চাপিয়ে বলেন, ‘আমি তো হর্ন আর সাইরেন বাজাচ্ছিলাম। আপনারা সরেননি কেন?’ এই ঘটনায় অভিষেকের নিশানা, ‘সে আশপাশের লোকজনকে ভিডিও করা বন্ধ করতে হুমকি দেয়। এরপর অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্যের সঙ্গে পুলিশকে জানাল যে, তার বাবা একজন বিধায়ক—যিনি এমনকী একটি খুনের ঘটনাও সামলে নিতে পারেন।’
এছাড়া পুলিশ দীনেশ লোধির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আর এই গোটা ঘটনা নিয়ে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তুলোধনা করে লিখেছেন, ‘এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লখিমপুর খেরিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে অত্যন্ত নির্মমভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেছিল। মন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার পদটি বহাল রেখেছিলেন। এমন ধারাবাহিক একটি প্রবণতা নিছক কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটি একটি সংস্কৃতি। বিজেপির সংস্কৃতি— যেখানে ক্ষমতা নিরঙ্কুশ, পরিণাম ঐচ্ছিক। আর মানুষের জীবন হল এক বিরক্তিকর উপদ্রব, যা শুধু ‘সঠিক’ ব্যক্তিকে একটি ফোন কলের মাধ্যমেই সামাল দেওয়া যায়। এটাই বিজেপির ডিএনএ।’