নিজস্ব প্রতিনিধি: এক সপ্তাহ আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছিলেন সোনারপুরকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত জামাল সর্দার(Jamal Sardar)। সালিশি সভা ডেকে মহিলাকে মারধরের অভিযোগে গত শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা(South 24 Pargana) জেলার সোনারপুর থানার(Sonarpur PS) প্রতাপনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের(Pratapnagar GP) বাসিন্দা জামালের বিরুদ্ধে গত ৭ জুলাই সোনারপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। সেখানে সালিশি সভার নামে এক মহিলার পায়ে শিকল বেঁধে মারধর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় জামালের দুই সঙ্গী মুজিদ খাঁ এবং অরবিন্দ সর্দারকে আগেই গ্রেফতার করে সোনারপুরের থানার পুলিশ। পরে গ্রেফতার হন জামালও। এদিন অর্থাৎ শুক্রবার সার সকালে সেই জামালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ(Police Raid)।
এদিন সকাল ৬টা নাগাদ জামালকে সঙ্গে নিয়েই তাঁর বাড়িতে পৌঁছায় সোনারপুর থানার পুলিশ। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গোটা বাড়ি জুড়ে চলে তল্লাশি। পুলিশ সূত্রে খবর, যেখানে সালিশি সভা বসত, যেখানে শিকল বাঁধার হুক ছিল, সেখানেই মাটির তলায় একটি চেম্বার গোছের জায়গার সন্ধান মিলেছে। কী কারণে ওই চেম্বারটি ব্যবহৃত হত, তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশকর্মীরা। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, জামাল দাবি করেছেন জলের ট্যাঙ্ক হিসাবেও মাটির তলার ওই চেম্বারটিকে ব্যবহার করতেন তিনি। শুক্রবার সকালে জামালের বাড়িতে পুলিশ ঢোকার পর, বাড়ি ভিতর থেকে কিছু ভাঙাভাঙির শব্দ ভেসে আসছিল। পুলিশি অভিযানের সময় সাক্ষী হিসাবে জামালের বেশ কয়েক জন প্রতিবেশীকে ডাকা হয়েছিল। তাঁরা জানিয়েছেন, জলের ট্যাঙ্কটিই ভাঙাভাঙির কাজ চলছিল।
সূত্রের খবর, মাটির তলায় ওই চেম্বারটির মধ্যে কিছু রয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখতেই পুলিশ সেটি ভাঙচুর চালিয়েছিল। তবে সাক্ষী হিসাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক প্রতিবেশী জানাচ্ছেন, ওই চেম্বারের ভিতর থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। অপর এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে আধার কার্ড-সহ বেশি কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন পুলিশকর্মীরা। কুলতলির সাদ্দামের বাড়ির টানেল চোখ কপালে তুলেছিল পুলিশের। এবার জামালের বাড়িতে হদিশ মিলল গুপ্তঘরের! বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় বিষয়টি টের পায় পুলিশ। কেন বাড়িতে এই আন্ডারগ্রাউন্ড তৈরি করা হয়েছিল। তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।