নিজস্ব প্রতিনিধি : পাওনাদাররা টাকা না পেয়ে মাঝে মাঝেই হানা দিতেন স্কুলে। শেষ পর্যন্ত ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন প্রধান শিক্ষক। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে জানা গিয়েছে, সামসেরগঞ্জের গাজিনগর মুষ্টিকমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন চিন্ময় প্রধান। অতিরিক্ত দেনার চাপে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার সকাল থেকে চিন্ময়বাবুর দেখা পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টা পরেই নির্মীয়মাণ একটি বাড়ির দোতলায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে দেখা যায় চিন্ময়বাবুকে। তারপর তাঁকে উদ্ধার করে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ৪৫ বছর বয়সি চিন্ময় প্রধান সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্কুল পরিদর্শক হোসেনেরা খাতুন জানান, ‘চিন্ময়বাবুর সংসারে ছিল স্ত্রী ও দুই ছেলে। বেশ কয়েকদিন মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি স্কুলে অনিয়মিত হাজিরা দিচ্ছিলেন তিনি। হাজিরার কারণ জানাচ্ছিলেন না। হঠাৎই ওর মৃত্যু সংবাদ পেলাম। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ওর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমাবেদনা জানাই।‘ জানা যাচ্ছে, গরমের ছুটি পড়ার আগে থেকেই স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন চিন্ময়বাবু। বাজারে যে প্রচুর ঋণ ছিল, সেকথা জানা যায় চিন্ময়বাবুর ছেলে সুজিতের মুখ থেকে। এই প্রসঙ্গে সুজিত জানান, ‘শুনেছিলাম, বাবার বাজারে কিছু ঋণ ছিল। কিন্তু সেই কথা আমাদেরকে বলেননি তিনি।’