নিজস্ব প্রতিনিধি : সামনেই দুর্গাপুজো। তার ওপর রয়েছে নিম্নচাপের ভ্রুকূটি। এরমধ্যেই ডেঙ্গি সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েচে সর্বত্র। কলকাতা সহ রাজ্যজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রমণ। আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষস্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। জুলাইয়ের শএষ থেকেই ডেঙ্গি বাড়তে শুরু করেছে। রবিবার পর্যন্ত রাজ্য়ে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৪,১২২ জন। শেষ সাতদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১০ জন।
আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষস্থানে মুর্শিদাবাদ থাকলেও তারপরেই রয়েছে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, মালদা ও কলকাতা। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যভবন ও পুরদফতরকে সতর্ক থআকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় পুর দফতরের সঙ্গে স্বাস্থ্য ভবনকে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। রাজ্যের কোথা কী অবস্থা রয়েছে সব নিয়ে ১৫ দিন অন্তর বৈঠক করতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘ডেঙ্গি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে, দুই দফতর সমন্বয় রেখে কাজ করলে পরিস্থিতির মোকাবিলা আরও সহজ হবে।
জানা গিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭৬। নদীয়ায় আক্রান্ত ৪৪১। উত্তর ২৪ পরগনায় ৪১০। হুগলিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৪। মালদায় আক্রান্তের সংখ্য়া ৩০১। কলকাতায় আক্রান্ত ২৭৮। নবান্ন থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, স্থানীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করতে হবে। এলাকায় যাতে জল জমে না থাকে সেই দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা বাড়াতে হবে। বর্ষা আসলেই ডেঙ্গি মাথা চাড়া দেয়। প্রতিবারই এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় কাউন্সিলারদের সাহায্যে জল জমার হটস্পটগুলি চিহ্নিত করে বিশেষ সাফাই অভিযান চালাতে হবে। পরিত্যক্ত জমি, আবর্জনার স্তূপ, বাজার—সর্বত্র নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে নবান্ন।
ঘুর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখনও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। এই মরশুমটাই মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃ্দ্ধির সময়। তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।