Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

ধুতি-পাঞ্জাবি এবং কোলাপুরি চপ্পলে আপাদমস্তক বাঙালি, বিতর্ক শিল্পনীতিতে

১১ বছরের মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল বাংলার মানুষের রায়ে। তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আজ জীবনযুদ্ধেও হেরে গেলেন তিনি।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘সময়, অসময়, দুঃসময়’, তাঁর লেখা নাটক। ঠিক যেন তাঁর নিজের জীবনের শিরোনাম। বামপন্থী পরিবারে বেড়ে ওঠার সংস্কৃতি প্রগাঢ় প্রভাব ফেলেছিল তাঁর জীবনে। সাহিত্যপ্রেমী বহু নাটক, প্রবন্ধ লিখেছেন। বিদেশি কবি-লেখকদের লেখা অনুবাদও করেছেন। তাঁর লেখা বই ‘স্বর্গের নিচে মহাবিশৃঙ্খলা’য় সমালোচনা করেছিলেন বর্তমান চিনের নীতিরও। আশির দশকের শুরুতে প্রমোদ দাশগুপ্তের সঙ্গে চিনেও গিয়েছিলেন। দেশ-বিদেশের একাধিক প্রথম সারির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সখ্য ছিল। ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ছিল বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গেও। নিজে স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখিয়েওছিলেন। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে বিতর্ক বাঁধিয়েছিলেন। সদম্ভে বলেছিলেন, ‘আমরা ২৩৫, ওরা ৩০! কী করবে ওরা’। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভ্রাতুষ্পুত্র। কবাডি খেলতেন। খেলতেন ক্রিকেটও। কিন্তু রাজনীতির খেলায় শেষে হেরে গিয়েছিলেন। ১১ বছরের মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল বাংলার মানুষের রায়ে। তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য(Buddhadeb Bhattacharya)।

আরও পড়ুন প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ

ব্যক্তিগত সততার নিরিখে এক বিরল রাজনীতিক ছিলেন বুদ্ধবাবু। ধুতি-পাঞ্জাবি এবং কোলাপুরি চপ্পলে আপাদমস্তক বাম বাঙালি। জন্ম উত্তর কলকাতায়। ১ মার্চ, ১৯৪৪। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর এলাকায় শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয় থেকে পাশ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্সি কলেজে বাংলা অনার্স নিয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে বুদ্ধদেব সিপিএমের(CPIM) সদস্য হন। তার আগে পর্যন্ত তিনি বাম-মনস্ক একজন ছাত্র ছিলেন, সাহিত্যের নানা ধারায় যাঁর বিচরণ। দলে যোগ দেওয়ার পরও মূলত দলীয় পত্রপত্রিকা সম্পাদনা এবং লেখালিখির দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। সশস্ত্র সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রশ্নে যখন বাম ছাত্র রাজনীতিতে বড় ভাঙন দেখা দিচ্ছে, শৈবাল মিত্র-আজিজুল হকের মতো নেতারা যখন পা বাড়াচ্ছেন ভিন্ন দিকে, তখনই বুদ্ধদেবের উত্থান। যুব আন্দোলনের প্রাথমিক সংগঠক হিসেবে যাত্রা শুরু তাঁর। ষাটের দশকের শেষের দিকে ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন বা DYFI’র রাজ্য সম্পাদক হন। সত্তরের দশকে মূলত কলকাতা জেলা জুড়েই তিনি সংগঠন শক্তিশালী করার কাজে ব্রতী হন। দলের প্রয়োজনে গ্রামবাংলায় যেতে হলেও সে সময় তাঁর কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়েছিল শহর কলকাতা জুড়ে। বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের বৃত্তে যাতায়াতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুন রেশনে কেরোসিনের দাম বাড়ল ২ টাকারও বেশি

বুদ্ধদেব সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য হন সত্তরের দশকের গোড়ায়। ১৯৭৭ সালে কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথম নির্বাচনে জেতেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভায় তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের দায়িত্ব পালন করেন। এটি পরে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর নামে পরিচিত হয়। ১৯৮২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হন বুদ্ধদেব। পরে ১৯৮৭ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন। সেই থেকেই তাঁর কেন্দ্র যাদবপুর। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বুদ্ধদেব। শোনা যায়, তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিবের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু সেই সচিবের পক্ষ নেওয়ায় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী বুদ্ধদেব মন্ত্রিসভা ছেড়ে চলে এসেছিলেন। শোনা গিয়েছিল, তিনি নাকি বলেছিলেন, ‘চোরেদের মন্ত্রিসভায় থাকব না।’ বুদ্ধদেবের মন্ত্রিত্ব-ত্যাগ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি আবার মন্ত্রিসভায় ফিরে যান।

আরও পড়ুন পুজোর আগেই সেপ্টেম্বরে রাজ্যের ৬ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সম্ভাবনা

১৯৮৪ সাল থেকে বুদ্ধদেব সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য। ১৯৮৫ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে জ্যোতি বসুর সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হন। পলিটব্যুরোর সদস্য হন ২০০০ সালে। সে বছরই ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন জ্যোতিবাবু অবসর নেওয়ার পর। ২০১১ পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। রাজ্যকে শিল্পায়নের সরণিতে দ্রুত এনে ফেলতে চেয়েছিলেন বুদ্ধদেব। কিন্তু সিঙ্গুরে এবং নন্দীগ্রামে ‘জোর করে’ কৃষিজমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জটিলতা চরমে উঠেছিল। সেই সময় তাঁর সরকারের স্লোগান ছিল, ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলি চালায় পুলিশ। সংঘর্ষে নিহত হন ১৪ জন গ্রামবাসী। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্ব থেকেই বিতর্ক তাড়া করতে শুরু করেছিল বুদ্ধদেবকে। কোথাও কোথাও প্রশাসনিক রাশ আলগা হওয়াও চোখে পড়ছিল। ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে একতরফা ফলের দু’বছরের মধ্যে, ২০০৮-এর পঞ্চায়েত ভোটে খানিকটা ধাক্কা খায় বামফ্রন্ট। পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ দখল করে বিরোধী তৃণমূল। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়ায় বামফ্রন্ট জিতলেও তৃণমূল ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলেছিল।

আরও পড়ুন দুর্যোগের জেরেও কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে শস্যবিমায় জোর, জেলায় জেলায় হবে শিবির

ধাক্কা আরও বৃহদাকার ধারণ করে ২০০৯ লোকসভা ভোটে। ৪২টি আসনের মধ্যে ২০টিতে হেরে যায় বুদ্ধদেবের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। ১৯টি আসন জেতে বিরোধী তৃণমূল। তাদের সমর্থনে আরও একটি আসনে জেতে এসইউসি। তখন থেকেই রাজ্যের পরিস্থিতির উপর রাশ হারাতে শুরু করে বুদ্ধদেবের প্রশাসন। তাঁর দলের নিচুতলার কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় দলবদলের হিড়িক। বামফ্রন্টের রক্তক্ষরণ অব্যাহত ছিল। ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনে এল চরম ধাক্কা। রাজ্যের ক্ষমতা থেকে সরতে হল বামফ্রন্টকে। সরতে হল বুদ্ধদেবকেও। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর সিপিএমের অন্দরে দলিল পেশ করে বুদ্ধদেব বলেন, শিল্পায়নের পথে এগোনোর জন্য তাঁর সরকারের নীতি ছিল সঠিক। শিল্পের জন্য জমি নেওয়াও ছিল সময়ের দাবি। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই অনিবার্য প্রক্রিয়ার মাঝে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের(Singur Nandigram) ঘটনা ‘ব্যতিক্রম’। দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে কিছু ভুল-ভ্রান্তি হয়েছিল। ব্যতিক্রম থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। ব্যতিক্রমের জন্য শিল্পায়নের(Industrialization) পথ থেকে সরা যায় না বলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল।

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00