নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত : কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে বা বিদেশে কাজ করেন স্বামী। কেউ অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত গোটা দিন। বাড়িতে একাকি রয়েছেন স্ত্রী। সময় কাটানোর জন্য মোবাইলকে সঙ্গী করেছেন। এখানেই ফাঁদ পেতেছে পরকীয়া। ইন্টারনেট স্বামী-স্ত্রীয়ের মধ্যের দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সেই দূরত্বকে হাতিয়ার করে প্রবেশ ঘটছে তৃতীয় ব্যক্তির।
ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে পৌঁছচ্ছে পরকীয়ায়। সংসার ছেড়ে অন্য কারও হাত ধরে স্বপ্নে বিভোর হচ্ছেন গৃহবধূরা। অনেকে বাড়িও ছাড়ছেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করেও লাভের লাভ কিছু হচ্ছে না। পলাতকরা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে জোর করার কোনও জায়গাই নেই। সংসার ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিসংখ্যান দেখলে চোখ কপালে ওঠার জোগার। উত্তর ২৪ পরগনার শুধু বারাসত পুলিশ জেলাতেই ৫ মাসে নিখোঁজ হয়েছেন ৫০০ জন গৃহবধূ। গৃহবধূর পাশাপাশি সেখানে কিশোরী নিখোঁজের ঘটনার সংখ্যাও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকে থানাগুলোর পক্ষ থেকে তৎপরতার সঙ্গে খোঁজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে অফিসাররা মরিয়া। কিন্তু পরকীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু করতে পারছে না পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অসংখ্য নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হয়েছে বারাসত পুলিশ জেলার বিভিন্ন থানায়। এই সময়ে মোট ৫৩৬ জন যুবতী নিখোঁজ হয়েছেন। তারমধ্যে প্রায় ৫০০ জনই গৃহবধূ। এদের মধ্যে কেউ পালিয়েছেন স্বামীর পরিচিতদের সঙ্গেই। কেউ কোনও ব্যবসায়ীর সঙ্গে, কেউ বা ঠিকাদার, আবার কেউ বা প্রতিষ্ঠিত কোনও যুবকের হাত ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোনই বাড়াচ্ছে পরকীয়া সম্পর্ক।
যদিও থানা-পুলিশ হওয়ার পর অনেক নিখোঁজ বধূ ও যুবতী বাড়ি ফিরেছেন। গৃহবধূদের খোঁজ পাওয়ার পরেও উদ্ধার করতে গেলে, তাঁরা ফিরতে চাইছেন না। দেখা গিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত বাড়ির মহিলারাই এতে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে নাবালিকাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ।