নিজস্ব প্রতিনিধি: অ্যালেক্স ক্যারে ও মিচেল স্টার্কের বুক চিতানো লড়াইয়ে টেস্ট বিশ্বকাপ ফাইনালের দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৭ রান তুলল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানের লিড ছিল প্যাট কামিন্সদের। ফলে প্রথমবারের মতো টেস্ট বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৮২ রান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাডা দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন। দুই ইনিংস মিলে ঝুলিতে ৯ উইকেট পুরেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে গিয়েছেন।
লর্ডসে টেস্ট বিশ্বকাপ ফাইনালে কাগিসো রাবাডার দুরন্ত বোলিংয়ে ২১২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। স্টিভ স্মিথ ও বেউ ওয়েবস্টার বাদে আর কেউ বড় রান পাননি। ব্যাট করতে নেমে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের আগুনে পেসে ১৩৮ রানেই শেষ হয়েছিল প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংস। ৭৪ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল অজি শিবির। ৭৩ রানের মধ্যেই সাত উইকেট খুঁইয়েছিল। মার্নাস লাবুশানে (২২), উসমান খোওয়াজা (৬), ক্যামেরন গ্রিন (০) স্টিভ স্মিথ (১৩), ট্র্যাভিস হেড (৯), বেউ ওয়েবস্টার (৯) ও প্যাট কামিন্স (৬) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হয়েছিলেন।
কিন্তু ক্রিকেট হলো অনিশ্চয়তার খেলা। অষ্টম উইকেটে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারে ও মিচেল স্টার্ক প্রোটিয়া বোলারদের সামনে বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়ান। দুজনে ৬১ রান যোগ করেন। এক সময়ে মনে হচ্ছিল ক্যারে বোধহয় অর্ধশতরান পাবেন। যদিও তা হয়নি। কাগিসো রাবাডার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে কার্যত একদিনের মতো ব্যাটিং করে ৫০ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে করে যান ৪৩ রান। ক্যারে ফেরার পরে একা কুম্ভ হয়ে লড়াই চালাতে থাকেন মিচেল স্টার্ক। সতীর্থ নাথান লিয়নকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালান। যদিও লিয়ন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। রাবাডার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ২ রান করে বিদায় নেন। ১৪৮ রানে ৯ উইকেট হারায় অজিরা।
তখনও চমকের বাকি ছিল। শেষ উইকেটে অর্থাৎ দশম উইকেটে ফের প্রোটিয়া বোলারদের সামনে বার্লিনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান মিচেল স্টার্ক ও জশ হেজলউড। দুজনে দেখেশুনে খেলতে থাকেন। প্রোটিয়া বোলারদের শাসন করে নিজের অর্ধশতরানও তুলে নেন স্টার্ক। দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত হেজলউডকে (১৭) ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন আইডেন মার্করাম।