নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের সাংসাদ হওয়ার মূল্য চোকাতে হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। ফের নড়াইল-১ আসনের সাংসদ ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে দায়ের হল হামলার মামলা। গতকাল সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে লোহাগাড়া থানায় মাশরাফি মর্তুজা ও তাঁর বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ে মদতপুষ্ঠ ছাত্র সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নড়াইল জেলা শাখার মুখ্য সংগঠক কাজি ইয়াজুর রহমান বাবু।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ৪ অগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কর্মসূচি চলাকালে উপজেলার লোহাগড়ার সিঅ্যান্ডবি চৌরাস্তা মোড়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালান মাশরাফি ও তাঁর বাবা গোলাম মর্তুজা। ১৫-২০ শিক্ষার্থীকে বাঁশের লাঠি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অভিযোগ পেয়েই এফআইআরে থাকা দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মাশরাফি ও তাঁর বাবা।
এক সময়ে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বাইশ গজ মাতিয়ে ছিলেন মাশরাফি। বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার হিসাবেই মনে করা হয় তাঁকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরে দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগে যোগ দেন মাশরাফি। ২০১৮ সালে নড়াইল-১ আসন থেকে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার দাঁড়িয়ে জয়ী হন। গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার পতনের পরেই মাশরাফির নড়াইলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত সন্ত্রাসীরা। আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় বাড়ি। রাজধানী ঢাকা-সহ একাধিক জায়গায় হত্যা চেষ্টার মামলা্ও দায়ের হয় দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। গ্রেফতারি থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দেন তিনি।