নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনার পতনের দিন অর্থাৎ গত ৫ অগস্ট রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণিতে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভাঙচুর করেছিল একদল হিংস্র জনতা। আর ওই হিংস্র জনতাকে জাতির জনকের মূর্তি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সহ সভাপতি তথা পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসাবে পরিচিত নুরুল হক নূর। সোমবার ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা এ কথা জানিয়েছেন। নূর যেমন ওই দিন বঙ্গবন্ধু মূর্তি ভাঙচুরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তেমনই ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে লুটতরাজ ও আগুন জ্বালানোর নেতৃত্বে ছিল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক।
ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, কোটা আন্দোলন চলার সময়ে রাজধানীর কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নূর। ওই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। ৪ অগস্ট তার সঙ্গে জেলে দেখা করতে যান ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাকিলউজ্জামান। তাকে বিজয় সরণির বঙ্গবন্ধু মূর্তি ভাঙার নির্দেশ দেন নূর। সেই নির্দেশ পেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন শাকিলউজ্জামান। ৫ অগস্ট সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের ক্যাডারদের নিয়ে বিজয় সরণিতে যান নূরের দুই তোলাবাজ সঙ্গী রাশেদ খান, হাসান আল মামুন। বিজয় সরণিতে জাতির জনকের মূর্তির কাছে পৌঁছে শিবিরের ক্যাডারদের উত্তেজিত করেন রাশেদ খান। বঙ্গবন্ধুর মূর্তিতে তিনি প্রথম জুতো ছুড়ে মারেন। এর পরেই ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডারদের বঙ্গবন্ধুর মূর্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই ছবি গোটা বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দিতে নিজের মোবাইলেই মূর্তি ভাঙার ছবি তোলেন শাকিলউজ্জামান।
যদিও নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনও অনুশোচনা নেই গণঅধিকার পরিষদের সভাপতির। সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা তথা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসাবে পরিচিত মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনা”য হাজির হয়েছিলেন নূর। সেখানে্ই এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধুর মতো ভারত দালালের মৃত্যুদিবসে শোকদিবস পালন উচিত নয়। অগস্ট আমাদের কাছে বিপ্লব ও আনন্দের মাস। প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়ে দিয়েছি, কোনও ভাবেই যেন ১৫ অগস্ট জাতীয় শোক দিবস না পালন করা হয় এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা না করা হয়। দেশে বঙ্গবন্ধুর কোনও মূর্তি থাকা উচিত নয়। সব গুঁড়িয়ে দেওয়া উচিত।’