নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের মাটি থেকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে ৭২ ঘন্টার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন পাকিস্তানের পোষ্যভৃত্য তথা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আর তার পরেই জোর কদমে নেমে পড়েছে হিযবুত তাহরীর-জামায়তুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। সেই সঙ্গে ইউনূসের আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা নিশ্ছিহ্নকরণ অভিযানে সামিল হয়েছে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উর্দু ভাষার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সংগঠিত ৫২’র ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক খান সাহেব এম ওসমান আলীর বাড়ি ‘বায়তুল আমানে’। পাশাপাশি ভাঙচুর চালানোর পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা হয়েছে শেখ হাসিনার জমানার খাদ্যমন্ত্রী তথা বাংলাদেশের অন্যতম হিন্দু নেতা সাধন চন্দ্র মজুমদারের বাড়ি।
এদিন সন্ধে সাতটা নাগাদ নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভাষাসৈনিক খান সাহেব এম ওসমান আলীর বাড়ি ‘বায়তুল আমানে’ হামলা ও ভাঙচুর চালায় একদল জনতা। ওই হামলার নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ। প্রথমে বিএনপি কর্মীরা হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেওয়াল ভাঙচুর করেন। তার পরে বাড়ির ভিতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতে বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সহযোগী তথা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভাষাসৈনিক খান সাহেব এম ওসমান আলীর বাড়ির পাশাপাশি এদিন নওগাঁয় শেখ হাসিনার খাদ্যমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট হিন্দু নেতা সাধন চন্দ্র মজুমদারের বাড়িও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বিএনপি ও হিযবুত তাহরীর জঙ্গিরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ নওগাঁর সরিষা হাটির মোড় এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সাততলা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর সন্ধে ছয়টা নাগাদ শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় অবস্থিত প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি ও হিযবুত তাহরীর জঙ্গিরা। পরে বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়।