নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের। ক্ষমতার পালাবদলের পরে গত সপ্তাহেই চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছিল হাসিনা ঘনিষ্ঠ সেনা কর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল হাসানকে। সেই সঙ্গে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলমকে সেনা থেকে সরিয়ে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার সরানো হল সেনা গোয়েন্দা প্রধান (ডিজিএফআই) মেজর জেনারেল হামিদুল হককে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত মেজর জেনারেল ফয়জুর রহমানকে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে প্রাণ হারানোর পরেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে মুক্তিযুদ্ধের অনুসারী সেনা সদস্য ও আধিকারিকদের সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান প্রয়াত জিয়াউর রহমান। আর তাঁদের জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল পাকিস্তানপন্থী ও কট্টর মৌলবাদী সেনা আধিকারিকদের। যার ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যত জামায়েতীকরণ হয়েছিল।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারা হওয়ার পরে ফের একই পথথে হাঁটতে শুরু করেছেন পাকিস্তানপন্থী হিসাবে পরিচিত সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। গত মঙ্গলবারই বাহিনীর শীর্ষ পদে একদফা রদবদল করেছিলেন তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সেনা কর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। পরবর্তী সেনাপ্রধান হওয়ার কথা যার সেই লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলমকে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠিয়েছিলেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মজিবুর রহমানকে জিওসি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরীকে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমকে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কমান্ড্যান্ট এনডিসি এবং মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমানকে এনটিএমসি’র মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ করেন। আর এদিন সেনা গোয়েন্দা প্রধানের (ডিজিএফআই) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মেজর জেনারেল হামিদুল হককে।