নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কতটা হিন্দু বিদ্বেষী, ফের একবার তার জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল। গত চার দশক ধরে হয়ে আসা নববর্ষের সকালের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘মঙ্গল’ কথাটির সঙ্গে হিন্দু ধর্মের সম্পর্ক রয়েছে সেই কারণেই ওই শব্দ বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানি চর তথা কট্টর মৌলবাদী মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর নেতৃত্বাধীন সংস্কৃতি মন্ত্রক। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম বদল করে কী নাম রাখা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামিকাল সোমবার (২৪ মার্চ) বৈঠকে বসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা স্বঘোষিত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতা নিয়াজ আহমেদ খান। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম বদলে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ কিংবা আরবি কোনও শব্দ ব্যবহার করা হতে পারে বলে রবিবার (২৩ মার্চ) ইঙ্গিত দিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রকের উপদেষ্টা মোস্তফা ফারুকী।
১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে নববর্ষের দিন সকালে প্রথমবারের মতো ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের হয়েছিল। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সঙ্গী করে সব বর্ণ আর ধর্মের মানুষকে নিয়ে ওই রঙিন শোভাযাত্রার আযোজন করা হয়েছিল। প্রথম বছরেই দেশ তো বটেই গোটা বিশ্বের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছিল ওই শোভাযাত্রা। পরে ১৯৯০ সালে ওই শোভাযাত্রার নাম বদলে করা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। গত ৩৯ বছর ধরেই পয়লা বৈশাখের সকালে ওই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে আসছে। আর তাতে সামিল হতেন আট থেকে আশি-সব বয়সীরা। ওই শোভাযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ইউনেস্কোর তরফ থেকেও ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের’ স্বীকৃতি পেয়েছিল।
যদিও কেন হিন্দুদের উৎসব নববর্ষের দিন ওই শোভাযাত্রা বের করা হচ্ছে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে এসেছে জামায়াত ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম সহ কট্টর মৌলবাদী সংগঠনগুলি। বেশ কয়েকবার শোভাযাত্রার উপরে হামলাও চালানো হয়েছিল। যদিও খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা ওই শোভাযাত্রাকে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু গত ৫ অগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই দেশে ফের নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পাকিস্তান পন্থী মৌলবাদীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আসীন হয়েছেন ‘রগকাটা সংগঠন’ হিসাবে কুখ্যাত ইসলামী ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতা ও নব্বইয়ের দশকের হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতা নিয়াজ আহমেদ খান। রবিবারের বৈঠকে তিনিই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম নিয়ে আপত্তি জানান। তার ওই কথা লুফে নেন আর এক পাকিস্তানি দালাল তথা কট্টর হিন্দু বিদ্বেষী মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী। তিনি জানিয়ে দেন, ‘হিন্দুত্বের গন্ধ থাকা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম বদলাতে হবে।’ এর পরেই ঠিক হয় আগামিকাল সোমবারই পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রার নতুন নাম ঠিক করা হবে। যদিও এই সিদ্ধান্তের কথা জানাজানি হতেই ক্ষোভ উগরে দিযেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সিংহভাগ পড়ুয়া।