নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘রাজাকার’ মোল্লা ইউনূসের জমানায় হিন্দু নির্যাতন থামার কোনও লক্ষণ নেই। এবার জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় এক হিন্দু প্রৌঢ়কে খুঁটিতে বেঁধে নৃশংসভাবে মারধর করলেন বিএনপি নেতা। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ওই মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বুক ফুলিয়ে বলে চলেছেন, ‘মেরেছি বেশ করেছি। বাংলাদেশে বসবাস করতে হলে হিন্দুদের পায়ের তলায় থাকতে হবে।’
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, তালার শ্রীমন্তকাটি গ্রামের বাসিন্দা ভবেন্দ্র দাস সাড়ে ৯ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য প্রায় তিন মাস আগে বালিয়া গ্রামের আব্দুল আহাদের সঙ্গে ৬৮ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। জমির মূল্য বাবদ কয়েক কিস্তিতে আবদুল আহাদ গাজী মাত্র ২৫ হাজার টাকা মেটান ভবেন্দ্র দাসকে। তার পরে ওই জমি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তবে ওই চাপ সত্বেও অন্য একজনের কাছে ওই জমি বিক্রি করেন ভবেন্দ্র। জানতে পেরেই চটে যান আহাদ। টাকা ফেরত চেয়ে ভবেন্দ্রকে ডেকে পাঠান এলাকার দাপুটে বিএনপি নেতা। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল শুক্রবার (২৯ অগস্ট) আহাদের সঙ্গে দেখা করতে যান ভবেন্দ্র।
তখন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পরে খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন প্রায় চার ঘন্টা ধরে চলে মারধর। শেষ পর্যন্ত নির্যাতিত ভবেন্দ্রর ভাইপো স্বপন দাস হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়ে অগ্রিম বাবদ দেওয়া ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি ৮ হাজার টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাকাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তালা থানার খেশরা পুলিশ ক্যাম্পের সাব ইন্সপেক্টর মনজুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ভবেন্দ্র দাসকে মারধরের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’