Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

ভগবান কৃষ্ণের বিরহে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল শ্রীরাধার ?

Share:

 পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :                         রাধার কী হৈল অন্তরে ব্যথা।

বসিয়া বিরলে                      থাকয়ে একলে

না শুনে কাহারো কথা।।

প্রেম যে বয়স মানে না, মানে না কোনও সামাজিক শর্ত—এই চিরসত্যের জীবন্ত নিদর্শন হলেন স্বয়ং রাধা ও শ্রীকৃষ্ণ। রাধা কৃষ্ণের চেয়ে পাঁচ বছরের বড় হলেও তাঁদের প্রেম ছিল নির্মল, নির্ভেজাল ও আত্মিক। কারণ, তাঁদের প্রেম তো জন্ম জন্মান্তরের। তাঁরা একে অপরের পরিপূরক। তাঁরা বৈকুন্ঠ থেকে এই গোলোকধামে এসেছিলেন শুধুমাত্র লীলার উদ্দেশ্যে। এই রাধাই লক্ষ্মী, ধাত্রী, গোলোকে রাসেশ্বরী রাধা, বৃন্দাবনে বৃন্দা, বিরজাতটে বিরজা- একই অঙ্গে নানা রূপ। রাধার ভালবাসায় ছিল না কোনও প্রত্যাশা—তিনি শুধু কৃষ্ণের উপস্থিতিতেই পরিপূর্ণতা অনুভব করতেন। রাধা কৃষ্ণের এই ঐশ্বরিক প্রেমই ছিল সর্বোচ্চ ভক্তির প্রকাশ, যা তাঁদের যুগলকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করেছিল।

শ্রীকৃষ্ণ যখন বৃন্দাবন ছেড়ে কংসবধের উদ্দেশ্যে মথুরা যাত্রা করেন, তখনই রাধার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কৃষ্ণ আর বৃন্দাবনে ফিরে আসেননি। বিরহাশ্রুতে রাধা বুক ভাসিয়ে ফেললেও তিনি মনপ্রাণে কৃষ্ণে আবিষ্ট থেকেছিলেন। প্রিয়তমের বিরহে তিনি ক্রমেই শুষ্ক, নিঃসাড়, হয়ে পড়ছিলেন। কৃষ্ণের স্মৃতিই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের একমাত্র আশ্রয়। ক্ষণে ক্ষণে তাঁকে ঘিরে ধরতো কৃষ্ণপ্রেমের নানা স্মৃতি। রাসেশ্বরী রাধার স্মৃতিতে ভাসত শুধুই রাসেশ্বরের প্রেম। প্রতি মুহূর্তে তাঁর মনে পড়তে থাকে কৃষ্ণের সাথে প্রেম রমণের কলা। তাঁরা দুজনেই ছিলেন কামশাস্ত্রে নিপুণ। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণের বিবৃতি অনুসারে বিহার কালে রাধাও কৃষ্ণের প্রতি নানা কামভাব প্রকাশ করতেন। কৃষ্ণ রাধার সাথে রাসে চৌষট্টি কলার সাহায্যে বিহার করতেন। রাধার মনে পড়তে থাকে কী ভাবে কৃষ্ণ বুকে করে নিয়ে তাঁকে নগ্নাবস্থায় চুম্বন করতেন। অতঃপর তাঁর গায়ে সযত্নে লেপন করতেন কুমকুম, চন্দন। গলায় পরিয়ে দিতেন অমূল্য রত্নহার ও কপালে সিঁদূর।

একেক দিন যেতে যেতে মাসের পর মাস কেটে বছর অতিক্রান্ত হয়। রাধা তাঁর কানাইয়ের সেই সুখ প্রেমস্মৃতি নিয়েই বিরহে দিন যাপন করতে থাকেন। জানা যায়, বিদায়ের আগে কৃষ্ণ শেষবারের মতো রাধার কাছে এসেছিলেন। সেখানে কিছু না বলেই দুজনের হৃদয়ে চলেছিল এক অদৃশ্য কথোপকথন। রাধা বলেছিলেন শুধু একটিই কথা—“তুমি আমার আত্মা। কেউ তোমায় আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না।” এই বচনেই ধরা পড়েছিল রাধার একনিষ্ঠ প্রেম। তারপর কৃষ্ণ বলরামের সঙ্গে অক্রূরের সহচর হয়ে মথুরার পথে রওনা দেন। কিন্তু রাধা তাঁর হৃদয়ে রয়ে যান চিরতরে।

সময়ের কালচক্রে কংস বধ হয়। এরপর শান্তি ফিরে আসে মথুরায় এবং কৃষ্ণ যান দ্বারকায় রাজত্ব করতে। কিন্তু রাধার মন তাঁর প্রাণেশ্বরকে ছাড়া মানতে চায় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কৃষ্ণবিরহ হয়ে ওঠে আরও তীব্র। সংসার তাঁকে সুখ দিতে পারেনি। মা-বাবা বিয়েও দেন, কিন্তু স্বামী-সংসারে কৃষ্ণবিমুখ রাধার হৃদয় কৃষ্ণচেতনাতেই নিমজ্জিত থাকে। অবশেষে একদিন সব কিছু ছেড়ে, পদব্রজে দ্বারকায় যাত্রা করেন শ্রী রাধা ।

অনাহারে, ক্লান্তিতে, জৌলুসহীন রাধা একদিন এসে পৌঁছান দ্বারকার রাজপ্রাসাদের সামনে। এতদিন পরে হলেও কৃষ্ণ তাঁর রাধাকে ভিড়ের মাঝেই ঠিক চিনে ফেলেন। রাধা তখন অকাল বৃদ্ধা, জীর্ণ দেহ, কিন্তু হৃদয়ে প্রেমের সেই আগুন তখনও জ্বলন্ত। কৃষ্ণের সান্নিধ্যে তিনি কিছুদিন রাজপ্রাসাদে দাসীর জীবন কাটান, যেন দূর থেকে হলেও প্রিয়তমকে প্রতিদিন দেখতে পান। তাঁদের এই সম্পর্কের কথা কেউ জানত না—এ ছিল এক আত্মিক বন্ধন, যা কোনও সামাজিক স্বীকৃতির মুখাপেক্ষী ছিল না।

কিন্তু সময় গড়াতে রাধা বুঝতে পারেন, দূরত্ব তাঁর প্রেমকে আঘাত করছে। তাই আবার একদিন নিঃশব্দে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করেন। নিঃস্ব, ক্লান্ত, অচেনা পথে এগোতে থাকেন—জানেন না কোথায় যাবেন। কিন্তু কৃষ্ণও তো আর সাধারণ পুরুষ নন, তিনি পরমেশ্বর। তিনি জানেন রাধা কোথায়, কোন অবস্থায়। গোপনে তিনি রাধার অনুসরণ করেন, এবং একসময় দেখা দেন রাধাকে।

রাধা তখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। শরীর দুর্বল, আত্মা পরিপূর্ণ। লীলাবতার শ্রীকৃষ্ণ কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি চাও?” এ প্রথমবার কৃষ্ণ নিজে কিছু চাইতে বলেন রাধাকে। রাধা বলেন, “কিছু চাই না। শুধু তোমার উপস্থিতিটুকুই যথেষ্ট।” কিন্তু কৃষ্ণ পীড়াপীড়ি করলে রাধা জানিয়েছিলেন, “তোমার বাঁশির সুর, আর একবার শুনতে চাই।” সেই সুমধুর সুর—যে সুরে বৃন্দাবনে হৃদয় কাঁপত রাধার— যে সুরে রাধা প্রবেশ করতেন প্রেমের গভীরে, যে প্রেমে এই যুগলের অধর মিলিত হত ; কৃষ্ণ আবার সেই বাঁশি বাজান। আর সেই সুর শুনতে শুনতেই নিথর হয়ে আসে রাধার দেহ। আত্মা মিশে যায় কৃষ্ণের মধ্যে। তাঁর প্রেমলগ্ন আত্মা সেই চিরন্তন পরমাত্মার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

এই মহামুহূর্তে কৃষ্ণ গভীর শোকাহত হয়ে বাঁশি ভেঙে ফেলে দেন বনের ভিতরে। আর কখনও তিনি বাঁশি বাজাননি। কারণ, রাধাই স্বয়ং ছিলেন সেই বাঁশির সুর, তাই রাধা ছাড়া বাঁশির সুরের কোনও প্রশ্ন আসেনা।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কোনও মানবিক সম্পর্ক নয়, তা এক চিরন্তন, আধ্যাত্মিক মিলনের প্রতীক। শরীরের নয়, হৃদয়ের বন্ধন ছিল তাঁদের প্রেমের ভিত্তি। এ প্রেমে প্রত্যাশা ছিল না, ছিল শুধু  নিবেদন। তাই রাধা হয়ে উঠেছেন প্রেমের সর্বোচ্চ রূপ, আর কৃষ্ণ—চিরসঙ্গী। তাঁদের বিচ্ছেদ যেমন আত্মিক নয়, তেমনি তাঁদের প্রেমও অমর, অক্ষয়। যুগের পর যুগ এই প্রেম আমাদের প্রেম, ভক্তি ও আত্মার শুদ্ধতার অনন্ত প্রতীক হয়ে রয়ে গিয়েছে। রাধে রাধে।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00