নিজস্ব প্রতিনিধি: চলতি বছর রাধাষ্টমী পালিত হবে ৩১ অগস্ট রবিবার। পঞ্জিকা অনুসারে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রাধাষ্টমী উৎসব পালিত হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম নেওয়ার আগে, অবশ্যই রাধারানির নাম নেওয়া হয়। ভক্তরা সর্বদা ‘রাধে-কৃষ্ণ’ বলেন, কখনওই কিন্তু ‘কৃষ্ণ-রাধে’ বলেন না। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং আশ্চর্য রহস্য।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, রাধার নাম জপ করলে শ্রীকৃষ্ণ খুশি হন। দেবী লক্ষ্মীর অসীম আশীর্বাদ প্রাপ্তি হয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কোনও সাধারণ প্রেম নয়, বরং এটি দানশীলতার একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ যা যুগ যুগ ধরে ভক্তদের হৃদয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে। এই কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাধার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নাম নেওয়া হয়।
শাস্ত্রে রাধা রাণীকে শ্রী কৃষ্ণের শাশ্বত শক্তি এবং জীবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে রাধা রাণী ছাড়া শ্রী কৃষ্ণের পুজো অসম্পূর্ণ। শ্রীমদ্দেবীভাগবত পুরাণে উল্লেখিত রয়েছে যে, যদি কেউ শ্রীরাধিকার পুজো না করে, তাহলে সে কৃষ্ণভক্তির অধিকারী নয়। বিশ্বাস করা হয় যে ভক্ত রাধার নাম গ্রহণ করেন, ভগবান কৃষ্ণ তার ডাক শোনেন এবং জীবনের সমস্ত অশান্তি হতে মুক্ত করেন। পুরাণে লিখিত রয়েছে, শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছিলেন, ‘রাধা আমার আত্মা। আমি রাধার মাঝে বাস করি এবং রাধা আমার মধ্যে বাস করেন।’ তাই যখন ভক্তরা ‘রাধে রাধে’-বলে ডাকেন, তখন কানাই বড়ই আনন্দিত হন।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ব্যাস মুনির পুত্র শুকদেব একটি তোতাপাখির রূপ ধারণ করে রাধার প্রাসাদে থাকতেন এবং দিনরাত ‘রাধে-রাধে’ জপ করতেন। একদিন রাধারানি তাকে বললেন এখন ‘কৃষ্ণ-কৃষ্ণ’ নাম জপ করতে। ধীরে ধীরে শহরের সকলে কৃষ্ণের নাম জপ করতে শুরু করল। এটা দেখে শ্রীকৃষ্ণ খুব দুঃখিত হলেন। তিনি তখন দেবর্ষি নারদকে বললেন যে ‘রাধা’ নাম শুনেই তিনি আনন্দ পান। গোপবল্লভের এই কথা শুনে শ্রীরাধিকার চোখ জলে ভরে গেল এবং তিনি শুকদেবকে বললেন এখন থেকে কেবল ‘রাধে-রাধে’ জপ করতে। তারপর থেকে এই ‘রাধে রাধে’ সম্বোধন এক ঐতিহ্য হয়ে ওঠে। কৃষ্ণের আগে রাধার নাম নেওয়া রীতিতে পরিণত হয়।