Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

ভগবান নৃসিংহের ক্রোধ প্রশমনকারিনী চেঞ্চু লক্ষ্মী কে ছিলেন ?

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হিন্দু পৌরাণিক শাস্ত্রে জগৎপালক শ্রী বিষ্ণুর অজস্র কাহিনী বিদ্যমান। তাঁর দশাবতারের মধ্যে ভগবান নৃসিংহদেব ছিলেন  তাঁর চতুর্থ অবতার, যিনি  তাঁর পরম ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করে হিরণ্যকশিপুর দম্ভ চূর্ণ করতে অর্ধেক সিংহ ও অর্ধেক মানবরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন । এই অতীব শক্তিশালী করাল দংষ্ট্রা উগ্র অবতারের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি হৃদয়স্পর্শী দিক হলো তাঁর চিরসঙ্গিনী – চেঞ্চু লক্ষ্মী। জানেন কী, কে ছিলেন তিনি ?

চেঞ্চু লক্ষ্মীকে দেবী লক্ষ্মীর এক বিশেষ উপজাতি রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি মূলত নৃসিংহদেবের সহধর্মিণী। কিংবদন্তী অনুসারে, একবার সমুদ্রদেব বরুণ মুনি দুর্বাসাকে একটি যজ্ঞে আমন্ত্রণ না জানানোয় দুর্বাসা তাঁকে অভিশাপ দেন। এই অভিশাপের ফলে বরুণ এবং তাঁর পত্নী চেঞ্চু উপজাতির দলে জন্ম নেন। এরই ফলশ্রুতিতে জন্ম হয় চেঞ্চু লক্ষ্মীর, যিনি প্রকৃতপক্ষে দেবী লক্ষ্মীরই একটি অংশ। জানা যায়, তাঁরা  সন্তানহীন ছিলেন এবং নারদ মুনির অনুগ্রহে তাঁদের কোল জুড়ে জন্ম নেয় এক কন্যা—চেঞ্চিতা। এই চেঞ্চিতা ছিলেন স্বয়ং লক্ষ্মীদেবীর তেজ থেকে সৃষ্ট এবং পরে তিনিই চেঞ্চু লক্ষ্মী নামে পরিচিত হন।

অপরদিকে, প্রবল পরাক্রমশালী হিরণ্যকশিপুকে বধ করার পর ভগবান নৃসিংহদেব এতটাই ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন যে, কেউই তাঁর কাছে যেতে সাহস পাননি—এমনকি দেবী লক্ষ্মীও না। এই উগ্র অবস্থা প্রশমিত করতে এগিয়ে আসেন চেঞ্চু লক্ষ্মী, যিনি ছিলেন এক সাহসী উপজাতি নারী। তাঁর সাহস ও নিষ্কলুষ ভক্তিতে প্রভাবিত হয়ে ভগবান নৃসিংহ শান্ত হন। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক, যা প্রেম ও আধ্যাত্মিকতা উভয়ের প্রতীক।

তবে, এই সম্পর্ককে প্রথমে স্বীকৃতি দিতে চাননি লক্ষ্মী দেবী। ফলে তিনি রুষ্ট হয়ে যান এবং নারদ মুনির কাছ থেকে জানতে পারেন, চেঞ্চু লক্ষ্মী তাঁরই এক অংশ—তাঁর নিজের তেজ থেকে সৃষ্ট। এই উপলব্ধি হওয়ার পর চেঞ্চু লক্ষ্মী ও লক্ষ্মী দেবী একাত্ম হয়ে যান এবং চেঞ্চু লক্ষ্মী হয়ে ওঠেন ভগবান নৃসিংহদেবের সর্বস্ব।

চেঞ্চু লক্ষ্মীর মাহাত্ম্য ও উপস্থাপনা

আজও নৃসিংহদেবের বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তেরা ভগবান নৃসিংহকে পদ্মাসনে উপবিষ্ট চেঞ্চু লক্ষ্মীর সাথে পূজা করে থাকেন। দেবী চেঞ্চু লক্ষ্মী একজন সাধারণ উপজাতিক নারী হয়েও প্রমাণ করে দেন যে ঈশ্বরের ভালোবাসা নির্দিষ্ট শ্রেণি, বর্ণ বা গোত্রের অধীন নয়। তাঁর সঙ্গে নৃসিংহের এই সম্পর্ক ভক্তির মাধ্যমে অর্জিত ঈশ্বরপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। চেঞ্চু লক্ষ্মী শুধু একজন স্ত্রী বা সহযোগিনী নন, তিনি ঈশ্বরের রুদ্র রূপ প্রশমনকারিনী এক মাতৃসম সত্ত্বা। তিনি সাহস, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের এক মূর্ত প্রতীক।

এই কাহিনী হিন্দু ধর্মের অন্তর্নিহিত মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মিক সত্যের গভীর ব্যাখ্যা প্রদান করে। ঈশ্বর ও তাঁর শক্তির এক অদ্বিতীয় ঐক্যের রূপ এই চেঞ্চু লক্ষ্মী-নৃসিংহ সম্পর্ক। চেঞ্চু লক্ষ্মীর উপাখ্যান, উপজাতি সমাজের সঙ্গে ঈশ্বরের সংযোগ, এবং ভক্তির প্রাধান্য একত্রে মিশে আছে এই কাহিনীতে। তাই চেঞ্চু লক্ষ্মী শুধু উপজাতি সমাজের গর্ব নন, তিনি সমগ্র বৈষ্ণব সমাজের ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00