Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

জানেন কী, ন্যাড়াপোড়ার নেপথ্যে থাকা হোলিকার অজানা কাহিনী ?

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: “আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া কাল আমাদের দোল,

                                           পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বল হরি বোল।”

প্রায় অধিকাংশ বাঙালিই এই ছড়াটির সাথে যথেষ্ট সুপরিচিত। আর দোলের আগের দিন রাতে এই ছড়া আওড়াতে আওড়াতেই বিভিন্ন জায়গায় আপামর বঙ্গবাসী মুখ ভরা ফুটকরাই নিয়ে ন্যাড়াপোড়াতে মেতে ওঠেন। ফাল্গুনী পূর্ণিমার রাতে শুকনো ডাল, পাতা, খড়, গাছের ডালপালা জোগাড় করে বুড়ির ঘর অর্থাৎ চাঁচড় বানিয়ে হই-হুল্লোড় করে তাতে আগুন দেওয়া হয়ে থাকে। তবে, যেটা আমাদের ন্যাড়াপোড়া, সেটাকেই আবার হোলিকা দহনও বলা হয়ে থাকে। এই রীতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পালিত হলেও সব জায়গাতেই মূলত একই উদ্দেশ্যে এই রীতি মানা হয়। বিশেষ করে, অশুভ শক্তিকে পুড়িয়ে শুভ শক্তির উদয় করার রীতিই হল এই হোলিকা দহন, যার মাধ্যমে মনের সকল কালিমা সরিয়ে জীবন আলোকোজ্জ্বল করে তোলার সংকল্প করা হয়। তবে, একে হোলিকা দহন কেন বলা হয়? এখানে কেই বা হোলিকা? আর, কেনই বা তাকে দহন করার প্রসঙ্গ উঠে আসে ? এর উত্তর জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে পৌরাণিক কাহিনিতে।

পৌরাণিক আখ্যানে বর্ণিত কাহিনি অনুসারে, মহামুনি কশ্যপের দুই স্ত্রী দিতি ও অদিতির মধ্যে দিতি ছিলেন রাক্ষসকুল গর্ভধারিনী, যাঁর এক পুত্র ছিলেন হিরণ্যকশিপু। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী রাক্ষস রাজা। তিনি নিজেকে ভগবানের সমান শক্তিশালী মনে করতেন এবং অত্যন্ত দাম্ভিক ও অহংকারী ছিলেন। একবার তাঁর কঠোরতর তপস্যায় খুশি হয়ে ব্রহ্মা তাঁকে বর দিয়েছিলেন, না কোনও মানুষ,  না কোনও প্রাণী তাঁকে বধ করতে পারবে। না তাঁর মৃত্যু ঘরের ভিতরে হবে। না তাঁর মৃত্যু ঘরের বাইরে হবে। এমনকী তাঁর মৃত্যু না দিনে হবে, না রাত্রে হবে। কোনও অস্ত্রের দ্বারাই তাঁর মৃত্যু ঘটানো সম্ভব হবে না। এমনকি জল স্থল ভূমি আকাশ কোনও জায়গাতেই তাঁর মৃত্যু হবে না। তবে এমন অহংকারী রাক্ষসের সন্তান ছিল পরম বিষ্ণুভক্ত, যাঁর নাম ছিল প্রহ্লাদ।

এমন অভূতপূর্ব বর পেয়ে হিরণ্যকশিপুর অত্যাচার চরমে পৌঁছেছিল। এমনকী, তাঁর নিজের সন্তান প্রহ্লাদও সেই অত্যাচারের হাত থেকে নিস্তার পাননি। প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত বলে কোনও ভাবেই তাঁকে মেনে নিতে পারছিলেন না হিরণ্যকশিপু। তাই তিনি নানাভাবে প্রহ্লাদের উপর অত্যাচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই শ্রী হরির দয়াতে প্রহ্লাদ রক্ষা পেয়ে যাচ্ছেন দেখে তিনি প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারার অভিপ্রায়ে তাঁর মায়া রাক্ষুসী বোন হোলিকার সাহায্য নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। শোনা যায়, হোলিকার আগুনে না পোড়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল, যা তাঁকে দিয়েছিলেন স্বয়ং ব্রহ্মা। আসলে হোলিকার কাছে ব্রহ্মার দেওয়া একটি বর প্রাপ্ত শাল ছিল, যা গায়ে দেওয়া থাকলে আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারতো না। তবে, তার নেপথ্যে ছিল একটি শর্ত। শর্তটি ছিল – এই ক্ষমতাটিকে অন্য কারও ক্ষতির জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু, নিজের দাদার আদেশে ক্ষতিসাধনমূলক কাজ করতে বাধ্য হন হোলিকা।

কথিত আছে, শাল গায়ে দিয়ে প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন হোলিকা, যাতে প্রহ্লাদ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, আর তিনি অক্ষত থাকেন। কিন্তু, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। প্রহ্লাদ আগে থেকেই বিষ্ণুনাম স্মরণ করতে শুরু করেছিলেন। এরপর হোলিকা আগুনের মধ্যে প্রবেশ করা মাত্র তাঁর শাল প্রহ্লাদের উপর গিয়ে পড়ে এবং হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যান। কিন্তু ভক্ত প্রহ্লাদ সুরক্ষিত থাকেন। সেই থেকেই শুরু হয় হোলিকা দহন প্রথা। শোনা যায়, পাঞ্জাবের (অধুনা পাকিস্তানের) মুলতান অঞ্চলের প্রহ্লাদপুরী মন্দিরে প্রথম এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল। প্রচলিত রীতি অনুসারে, এখানে চাঁচর দিয়ে কুশপুতুল বানিয়ে হোলিকা দহন করা হয়।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00