নিজস্ব প্রতিনিধি : দক্ষিণ বারাসাতে পরম্পরা মেনে চলে আসছে সাত সতীনের দোল খেলা। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই উৎসব। ১৮২০ সালে প্রথম শুরু হয়েছিল এই দোল উৎসব। ছিল পরপর সাতটি দোল মঞ্চ। তবে বর্তমানে পাঁচটিতে এসে ঠেকেছে। সাতটি দোল-মঞ্চ ছিল মোদক পরিবার, আচার্য পরিবার, মুহুরী পরিবার, বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার, চক্রবর্তী পরিবার, চৌধুরী পরিবার, ও বোস পরিবার-এর।
লোকমুখে শোনা যায় ১৮২০ সালের আগে এই সাত পরিবারের বিশাল জমিদারি ছিল।সাতজনের মধ্যে সবকিছু নিয়ে চলত ক্ষমতার লড়াই।যাকে বলে দেখনদাড়ির লড়াই।ব্রিটিশ আমলে এই জমিদারদের ঝগড়া গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। এরপর বিচারক নির্দেশ দেন, ঝগড়া নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নিতে হবে।সেখান থেকেই শুরু হয় সাত সতীনের দোল। একবছর দোল উৎসবের সময় এই ৭ জমিদার নিজেদের ঝগড়াঝাটি মিটিয়ে নেন।দোল উৎসব হয়ে ওঠে মিলন উৎসব।
এই উৎসবের নাম দেওয়ার পেছনে কারণ আছে। ঠিক যেমন সতীনে-সতীনে ঝগড়া লেগে থাকে, তেমনই এই জমিদারদের মধ্যেও ঝগড়া লেগে থাকত। সেখান থেকেই সাত সতীনের দোল নামকরণ।সাত সতীনের ঝগড়া মেটাতেই শুরু হয়েছিল এই উৎসব। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই দোল উৎসব। তবে বর্তমানে এই উৎসবে সতীনের মত ঝগড়া হয় না। বরং মিলনের উৎসব হয়ে ওঠে। এইসময় সকলে কাঁধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে। খাওয়া-দাওয়াও হয় জমকালো। বহু প্রান্ত থেকে আজও দর্শকরা এই উৎসবে সামিল হতে আসে। দেখনদারির লড়াইটা থেমেছে। আজও সকলকে অবাক করে দেয় সাত সতীনের দোল উৎসব। আজকের দিনে মনে পড়ে যায় পুরনো সেই ইতিহাস।