Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

জানেন কী, কলিযুগে অধর্মের উত্থান বার্তা পূর্বেই দেওয়া হয়েছিল ভবিষ্য় পুরাণে?

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ জানতে বড় আগ্রহী, বিশেষত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে। তাদের জানতে চাওয়ারও কোনও শেষ নেই। তাই হয়তো কথায় বলে, জানার কোনও শেষ নাই। এই সূত্র ধরেই বলা যেতে পারে, ভারতীয় পৌরাণিক শাস্ত্রে পুরাণসমূহ এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। এগুলি শুধু ধর্মীয় উপাখ্যান নয়, বরং ইতিহাস, দর্শন, সমাজব্যবস্থা ও ভবিষ্যদর্শনেরও ধারক। জানা যায়, ভারতীয় পৌরাণিক শাস্ত্রে অষ্টাদশ মহাপুরাণের অন্যতম হল ভবিষ্য পুরাণ—যা নামেই বুঝিয়ে দেয় যে এটি ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত কাহিনি ও ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে রচিত এক মহাগ্রন্থ। এটি রচনা করেছিলেন মহামুনি বেদব্যাস, যিনি অষ্টাদশ পুরাণ রচনার কৃতিত্বের অধিকারী। পুরাণগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ জনগণের জন্য জটিল বৈদিক জ্ঞানকে সহজভাবে উপস্থাপন করা। সে অর্থেই ভবিষ্য পুরাণ তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পুরাণ শ্রবণের সূচনা

কিংবদন্তি অনুসারে, ভবিষ্য পুরাণের সূচনা নৈমিষারণ্য তীর্থক্ষেত্রে। একদা সেখানে শৌনক, ঋষ্যশৃঙ্গ, গৌতম, কণ্ব প্রভৃতি ষাট হাজার মুনি একত্র হয়ে এক মহাযজ্ঞে ব্রতী হয়েছিলেন এবং তাঁরা লোমহর্ষণ সূত থেকে বিভিন্ন পুরাণ, ইতিহাস ও আদি সৃষ্টিকাহিনি শ্রবণ করতে থাকেন। লোমহর্ষণ ছিলেন বেদব্যাসের একান্ত শিষ্য এবং পুরাণশ্রবণের অধিকারী।

পৃথিবীর আদি ইতিহাস, দেবতা, অসুর, মনু, রাজবংশ প্রভৃতি সবই আলোচিত হয় সেখানে। কিন্তু একসময় মুনিগণ জানতে চান, “ভবিষ্যতে কি ঘটবে? পরবর্তী যুগে পৃথিবীর অবস্থান কেমন হবে? ধর্মের অবস্থা কি হবে? সভ্যতা কোন পথে চলবে?”

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে মহামুনি বেদব্যাস তাঁর দিব্যদৃষ্টি দ্বারা যা দেখেছিলেন, তা তিনি তাঁর শিষ্য লোমহর্ষণকে জানিয়েছিলেন। মহামুনি ব্যাস ছিলেন ত্রিকালজ্ঞ—অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্ঞান ছিল তাঁর। তিনি ভবিষ্যতের যা যা ঘটনা ঘটবে, তা পূর্বানুমান করে কাহিনীরূপে রচনা করেছিলেন। এই ভবিষ্যতের কথাগুলিই সংকলিত হয়ে স্থান পায় একটি বিশেষ পুরাণে, যা ভবিষ্য পুরাণে নামে পরিচিত হয়।

ভবিষ্য পুরাণে কী রয়েছে?

এই পুরাণে যেমন অতীতের অনেক কাহিনি স্থান পেয়েছে, তেমনই ভবিষ্যতের বহু ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাভাস রয়েছে। যেমন—

  • মঘধ রাজবংশ ও তার পতনের কথা
  • গুপ্ত সাম্রাজ্যের উত্থান
  • বিভিন্ন ধর্মের আগমন ও বিকাশ
  • ধর্মের অবক্ষয় এবং কলিযুগের লৌকিক ধর্মাচরণের সংকট
  • আচার ও আধ্যাত্মিকতার পতন
  • ধর্ম ও অধর্মের দ্বন্দ্বের পরিণতি

এইসব কাহিনি শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ঐতিহাসিক এবং সমাজতাত্ত্বিক দিক থেকেও চরম তাৎপর্যপূর্ণ।

ভবিষ্য পুরাণের তাৎপর্য

এই পুরাণ মানুষের কৌতূহল মেটানোর পাশাপাশি আবার সতর্ক বার্তাও দেয়। কলিযুগে কীভাবে ধর্ম দুর্বল হবে, অধর্মের প্রাবল্য দেখা দেবে এবং মানবসমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটবে, তা আগাম জানিয়ে দেয়। এর মধ্য দিয়ে মানুষকে সতর্ক থাকতে, ধর্মমতে জীবনযাপন করতে ও আত্মজ্ঞান চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, মহামুনি বেদব্যাস রচিত ভবিষ্য পুরাণ হল এক অলৌকিক দৃষ্টির দলিল, যা অতীত-বর্তমান ছাপিয়ে ভবিষ্যতের পথে মানুষের জন্য নির্দেশচিহ্ন রেখে যায়। এই পুরাণ শুধুই পুরাতন কাহিনির ভাণ্ডার নয়, বরং এক জীবনদর্শন, এক যুগদর্শন—যা আমাদের ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ করে।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00