নিজস্ব প্রতিনিধি : মারামারি করতে গিয়ে প্রাণ গেল পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ কুমিরের। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান জুলজিক্যাল পার্কে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বন্যপ্রাণ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে। মৃত কুমিরটি ছিল জাতে মেছো কুমির। মিষ্টি জলেই থাকত সে। ইতিমধ্যেই কুমিরটির দেহের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য পোস্টমর্টেমের রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে কলকাতায়। তা খতিয়ে দেখছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মৃত কুমিরের গায়ে কামড়ানোর ক্ষত ছিল। এই ক্ষতগুলো বড় বড় আকৃতির। তার জেরেই ওই মেছো কুমিরটি মারা যায়। মেছো কুমিরটির আকৃতি প্রায় ৭ ফুটের মতে লম্বা। একটি খাঁচায় একসঙ্গে ৫ টি মেছো কুমির ছিল। তার মধ্যেই একজন মারা গিয়েছে। ওই এনক্লোজারে থাকা একটি ছোট কুমিরও আহত হয়। তার লেজে আঘাত লাগে। আপাতত বন কর্মী আধিকারিকরা ওই খাচা থেকে বাকি ছোট কুমিরটিকে সরিয়ে নিয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে আহত ছোট কুমিরটি।
এই নিয়ে এক শীর্ষ বনাধিকারিক জানান, নিজেদের মধ্যে লড়াই করেই ওই কুমির মারা গিয়েছে। তার দেহে প্রচুর ক্ষতচিহ্ন ছিল। ক্ষত গুলো ছিল খুব গভীর। মারমারির এক পর্যায়ে লড়াই করার আর শক্তি ছিল না ওই কুমিরের। তাই সে মারা যায়। ওই মেছো কুমিরটি মারা যাওয়ার পর অন্য কুমিরদেরও ওই খাঁচা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
একইসঙ্গে এনক্লোজার পার্কের একজন চিকিৎসক জানান, বন্যপশুদের নিজেদের মধ্যে মারামারি করার প্রবণতা রয়েছে। এটি প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে থাকে। ওই দলে যদি মহিলা কুমির থাকে তবে মারামারি খুব কম হয়। তবে পুরুষ কুমিরের সংখ্যা বেশি থাকলে নিজেদের মধ্যে শক্তির লড়াই চলে।