নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: এ দুনিয়ায় ভাই সবই হয়, সব সত্যি! সব সত্যি! সব সত্যি!কখনও শুনেছেন চুরি করার পর ক্ষতিগ্রস্থকে ফোন করে কৈফিয়ৎ তলব করেছে চোর? অবিশ্বাস্য শুনতে হলেও এমনই আজব ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের ফয়লা রোডের এক ওষুধের দোকানের মালিকের সঙ্গে। চুরির পর চোর বাবাজি সরাসরি দোকানের মালিককে ফোন করে উষ্মা প্রকাশ করে কৈফিয়ৎ তলব করেছেন-ক্যাশ বাক্সে কম টাকা রাখা হল কেন? সেই সঙ্গে ক্ষতির উসুলে বস্তা ভরে ওষুধ নিয়ে চম্পট দেওয়ার কথাও জানিয়ে দিয়েছে। চোরের এমন কাণ্ড শুনে অবাক হয়ে গিয়েছেন খোদ ওষুধ দোকানের মালিক। রসিক চোরকে পাকড়াও করতে সরাসরি পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। যদিও রসিক চোর বাবাজির হদিশ পাওয়া যায়নি।
তাহলে খুলেই বলা যাক ঘটনাটি। অন্যান্য দিনের মতোই সোমবার ঈদের দিন ভোর বেলা হাঁটতে বেরিয়েছিলেন ফয়লা রোডের মল্লিক ফার্মেসির মালিক হরেন্দ্রনাথ সাহা। বাড়িতেই রেখে গিয়েছিলেন মোবাইল ফোন। বাড়ি ফেরার পর তাঁর স্ত্রী হরেনবাবুকে জানান, ‘এক ব্যক্তি বেশ কয়েকবার তাঁকে ফোন করেছে। যদিও নিজের পরিচয় জানায়নি। ওই কথা শুনে হরেনবাবু ফোন থেকে ওই অচেনা ব্যক্তিকে রিংব্যাক করেন। আর ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির কথা শুনেই তাঁর পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা অচেনা ব্যক্তি ফোন ধরেই হরেনবাবুকে ক্ষিপ্ত মেজাজে বলতে শুরু করেন, ‘কাল রাতে আমি আপনার ফার্মেসিতে চুরি করেছি।প্রতিদিনই তো আপনার ফার্মেসিতে প্রায় দুই লাখ টাকার উপরে বেচাকেনা করেন। কিন্তু ক্যাশ ড্রয়ারে ৪০/৫০ হাজার টাকা রেখেছেন কেন? টাকা কম রেখেছিলেন, তাই আমরা কয়েক বস্তায় ভরে ওষুধ নিয়ে এসেছি। দোকান খুলে দেখুন, সব বুঝতে পারবেন।’
ওই কথা শুনেই তড়িঘড়ি দোকানে ছুটে যান হরেনবাবু। দোকান খুলতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তাঁর। দেখতে পান, ক্যাশ বাক্স ভাঙা। বেশ কয়েকৃই র্যাক থেকে উধাও দামী ওষুধ। দোকানের পিছনে থাকা গ্রিল কাটা। সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানায় গিয়ে গোটা বিষয়টি জানান। চোর যে তাঁকে ফোন করেছিল, তাও উল্লেখ করেন। যদিও যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, তার সুইচ বন্ধ থাকায় পুলিশ লোকশন ট্র্যাক করতে পারেনি। এমন রসিক চোরের কীর্তি এখন কালীগঞ্জের মানুষের মুখ-মুখে ফিরছে।