নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলা ক্যালেন্ডার হিসেব মত চলছে অঘ্রাণ মাস। সবে শীত পড়তে শুরু করেছে। পুরাণ বলছে যে অঘ্রাণ মাস থেকেই শুরু হয় সত্যযুগ। জানেন কি এই মাসের বিশেষত্ব ? গীতায় উল্লেখিত রয়েছে, মাসানাম মার্গশীর্ষ আয়াম’ শ্রীকৃষ্ণের এই উবাচের অর্থ ‘আমিই মার্গশিরা, এই আমার রূপ।’ সংস্কৃতে অগ্রহায়ণ মাসকে মার্গশিরাও বলা হয়ে থাকে। এই মাসেই মৎস্য অবতার রূপ ধারণ করেন ভগবান বিষ্ণু। বৈদিক যুগে এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই পবিত্র মাসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা-অর্চনা করলে সব ধরনের সাফল্য পাওয়া যায়। সব ঝামেলাও দূর হয় বলে মনে করা হয়।
এছাড়াও দ্বাপর যুগে সত্য যুগ সম্পর্কে বিশেষ উক্তি করেছিলেন বিষ্ণুর নবম অবতার শ্রীকৃষ্ণ। অঘ্রাণ মাসে শুরু হওয়া পৃথিবীর এই প্রথম যুগ আজও রহস্যে ঘেরা। মনে করা হয় অঘ্রাণ মাস বিষ্ণুর অতি প্রিয়। এই কারণে এই মাসে বিষ্ণুর বিশেষ পুজো করা হয়ে থাকে। বাংলা পঞ্জিকা মতে, সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে অঘ্রাণ মাস শুরু হয়।
বলা হয়,চার বেদকে হায়াগ্রীব নামে জলরাক্ষসের কবল থেকে বাঁচাতে এবং জলপ্রলয় থেকে মনুকে বাঁচাতে ভগবান বিষ্ণু মৎস রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মৎস্য অবতারে নারায়ন একটি বিশাল নৌকা তৈরি করে সেখানে সব ধরনের প্রাণী, গাছের বীজ ও সাত ঋষিকে নিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। সৃষ্টিতে সব ধ্বংস হয়ে গেলে মনুর সাহায্যেই নতুন করে শুরু হয়েছিল সৃষ্টিচক্র।
এই মাসে কি করবেন :
দান করা : শিবপুরাণে অনুযায়ী, মার্গশীর্ষ মাসে দান করা খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী দান করলে সম্মান বাড়ে।বিশেষ করে খাদ্য দানেরও সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। এই পবিত্র মাসে খাদ্য-বস্ত্র দান করলে ব্যক্তির জীবনে পূর্বের পাপ বিনষ্ট হয়।
বিষ্ণুর অভিষেক : অঘ্রান মাসে, দক্ষিণাবর্তী শঙ্খের মধ্যে কাঁচা দুধ ভরে ভগবান বিষ্ণুকে অভিষেক করুন।একই শঙ্খে গঙ্গাজল ও জাফরান মিশিয়ে দেবী লক্ষ্মীকে অভিষেক করুন।এমনটা করলে বাড়ি থেকে অর্থ কষ্ট দূর হয়। গৃহে শান্তি ফিরে আসে।
এছাড়াও বলা হয়, এই মাসে সাদা শাঁখা, চাল, বাতাশা সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে নদীতে ফেলে দিন, এতে কুণ্ডলীতে শুক্রের অবস্থান শক্তিশালী হয়।
আরও পড়ুন : জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে জেনে নিন ভগবান বিষ্ণুর ১০ অবতার সম্পর্কে