Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

কীভাবে ভগবান বিষ্ণু পেয়েছিলেন তাঁর সুদর্শন চক্র ? জানুন অজানা কাহিনি

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সৃষ্টির প্রথম থেকে যখনই মানুষে চরম বিপদে পড়েছে, তখনই তারা শরণাপন্ন হয়েছে দেবতাদের আর দেবতারা ভীষণ বিপদে পড়লে শরণাপন্ন হন মহেশ্বরের। কারণ তিনি আদি, তিনিই অন্ত। তিনিই সৃষ্টি, তিনিই প্রলয়। সকল দেব-দেবীদের পরম আরাধ্য দেবতা তিনি। তাই তো তিনি দেবাদিদেব মহাদেব।  জানা যায়, প্রাচীন হিন্দু পুরাণে শিব ও বিষ্ণুর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাঁদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা অনেক সময়েই একে ওপরের পরিপূরক রূপে কাজ করেন। তবে, জানেন কী? শঙ্খ -চক্র ধারী পীতবর্ণী বিষ্ণুকে তাঁর প্রধান অস্ত্র সুদর্শন চক্র দান করেছিলেন স্বয়ং দেবাদিদেব ? হ্যাঁ, এই ঘটনাই পরবর্তীতে দেবতা -অসুরদের চিরন্তন দ্বন্দ্বে এক যুগান্তকারী মোড় এনে দিয়েছিল।

জানা যায়, প্রজাপতি কশ্যপের প্রথমা পত্নী অদিতির গর্ভে দেবতাদের এবং দ্বিতীয়া পত্নী দিতির গর্ভে জন্ম হয়েছিল অসুরদের। এ কারণে দেবতা ও অসুরগণ বৈমাত্রেয় ভাই হয়েও পরস্পর পরস্পরের শত্রু। যুগে যুগে এই দুই শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই থাকে। কথিত আছে, একসময় অসুরদের সঙ্গে যুদ্ধে দেবতারা কঠিনভাবে পরাজিত হয়ে প্রাণে বাঁচার জন্য রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁরা ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও হতাশ হয়ে তাঁদের একমাত্র আশ্রয়দাতা শ্রীবিষ্ণুর শরণাপন্ন হন।

দেবতাদের শোচনীয় অবস্থা দেখে শ্রীবিষ্ণু জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁদের এমন অবস্থা হয়েছে। দেবতারা বিষ্ণুকে সব খুলে বলেন যে, অসুররা এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে তাঁদের কোনও অস্ত্রেই বধ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেবতারা জানান, দধীচি মুনির কাছে থাকা সূক্ষ্ম সুদর্শন চক্র ছাড়া অন্য কোনও অস্ত্রে অসুরদের বিনাশ সম্ভব নয়। সেই চক্রটি শিব নিজে সৃষ্টি করেছিলেন প্রবল পরাক্রমী মহা শক্তিশালী জলন্ধরকে বধ করার  জন্য, যা এখন কেবল মহাদেবের কাছেই পাওয়া সম্ভব।

দেবগণের কথা শুনে শ্রীবিষ্ণু তৎক্ষণাৎ তাঁদের নিয়ে শিবের শরণাপন্ন হলেন। দেবাদিদেবকে সন্তুষ্ট করতে জগৎপালক শ্রী হরি মেরু পর্বতের সদৃশ এক বিশাল শিবলিঙ্গ স্থাপন করে রুদ্রসূক্ত ও ত্বরিতাখ্য রুদ্র মন্ত্রে শিবের পূজা আরম্ভ করলেন। এরপর সহস্র পদ্মফুল নিয়ে একে একে শিবলিঙ্গে অর্পণ করতে থাকলেন এবং শিবের সহস্র নাম পাঠ করে প্রণাম জানাতে লাগলেন।

অতঃপর মহেশ্বর বিষ্ণুকে পরীক্ষা করার জন্য একটি পদ্মফুল সরিয়ে দেন। পূজা অসম্পূর্ণ হয়ে যাবে বুঝতে পেরে বিষ্ণু নিজের বাম চোখ, যা পদ্মের মতো, তা উপড়ে নিয়ে শিবলিঙ্গে অর্পণ করেন। বিষ্ণুর এই ভক্তি, আত্মনিবেদন আর দৃঢ়তার কাছে মুগ্ধ হয়ে মহেশ্বর স্বয়ং সেখানে আবির্ভূত হলেন। সেই সময় তাঁর দেহ থেকে প্রখর জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতে থাকে, যেন কোটি সূর্যের আলো একসাথে মিলেছে। মহাদেবের ভয়ঙ্কর রূপ দেখে দেবতারা ভয়ে পালিয়ে গেলেও বিষ্ণু তখনও হাত জোড় করে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

মহেশ্বর তখন অতি প্রসন্ন হয়ে বলেন, “হে মধুসূদন, দেবকাজ সিদ্ধ করার জন্য আমি তোমাকে এই সুদর্শন চক্র দান করছি।” এরপর শিব শত সূর্যসম দীপ্তিমান সেই সুদর্শন চক্র বিষ্ণুকে প্রদান করেন, যা দিয়ে তিনি অসুরদের নিধন করে দেবতাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন। সেই সঙ্গে শিব তাঁর পদ্মসদৃশ নয়নও দান করেন, যা থেকে বিষ্ণু কমলনয়ন নামে খ্যাতি লাভ করেন।

এই মহাকাব্যিক ঘটনায় স্পষ্ট হয় যে, শিব ও বিষ্ণু একে অপরের সম্পূরক, আর বিশ্বে ধর্ম প্রতিষ্ঠা ও অশুভ শক্তি বিনাশে তাঁরা একে অপরের শক্তি ও সহায়তা দ্বারা যুগে যুগে শরণাগতদের রক্ষা করে আসছেন। সুদর্শন চক্র শুধু বিষ্ণুর অস্ত্র নয়, এটি ধর্মের বিজয়েরও প্রতীক। শিবের দান করা এই চক্রেই নিহিত আছে অসুর নিধন এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠার শক্তি, যা আজও সকল ভক্তের মনে শিব-বিষ্ণুর ঐক্যের মহিমা জাগিয়ে তোলে।

ওঁ নমঃ শিবায়ঃ , ওঁ নমঃ নারায়ণায় নমঃ।

বিশ্বকাপ শুরুর মুখেই চাকরি হারালেন সৌদি আরবের কোচ রেনার্ড

ভোটারদের নিরাপত্তায় পোলিং বুথের চারপাশে ‘লক্ষ্মণ রেখা’ কাটবে কমিশন

বাংলাদেশের জাহাজকে হরমুজ পেরোনোর অনুমতি দিল না ইরানের আইআরজিসি

‘দেশের বাইরে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করা হবে না’, ট্রাম্পের দাবি খারিজ ইরানের

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, প্রথম দফায় বিজেপির ৭০ শতাংশ প্রার্থীই ‘দাগি’

0:00