নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: গায়ের জোরে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন। বিনা অপরাধে জেলে পুরেছেন হাজার-হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের। আর ওই কুকর্মের ফল ভালই টের পাচ্ছেন পাকিস্তানি দোসর মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। শেখ হাসিনার দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে কার্যত চোরের মতোই পিছনের দরজা দিয়ে হোটেলে ঢুকতে হয়েছে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে। শুধু তাই নয়, মোটা টাকা চাঁদা দিয়ে যে সংগঠনকে দিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলেন, বুধবার সেই চ্যাথাম হাউসের সভাতেও সামনের দরজা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। নিরাপত্তার কারণে পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকতে হয়েছে। অতীতে বাংলাদেশের কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে এমন বিক্ষোভ কিংবা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে কিনা, তা মনে করতে পারছেন না লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা।
বেসরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাঁচদিনের সফরে গতকাল মঙ্গলবার (১০ জুন) লন্ডনে পৌঁছেছেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরে তার সঙ্গী হয়ে এসেছেন হিযবুত তাহরীর জঙ্গি শফিকুল আলম-আবুল কালাম আজাদ মজুমদাররা। পার্ক লেনে ‘দ্য ডরচেস্টার’ হোটেলে স্যাঙাতদের নিয়ে ডেরা বেঁধেছেন তিনি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকরা। পাল্টা হিসাবে বাংলাদেশ দূতাবাসের তরফে হেফাজত ইসলামী-জামায়াত ইসলামীর কয়েকজন সমর্থককে দিয়ে ইউনূসকে স্বাগত জানিয়ে পাল্টা জমায়েত করানোর চেষ্টা চলেছিল। কিন্তু গণধোলাইয়ের ভয়ে খানিকবাদেই ওই মৌলবাদীরা পাততাড়ি গুটিয়ে হাওয়া হয়ে যান। তবে আওয়ামী লীগ সমর্তকরা লাগাতার হোটেলের সামনে অবস্থান নেন। মাঝে গোপন বৈঠকের জন্য হোটেল থেকে বেরোন ইউনূস। ওই সময় আওয়ামী লীগ কর্মীরা শ্লোগান দেন, ‘ইউনূসের দুই গালে, জুতো মারো তালে তালে।’ অনেক বিক্ষোভকারী জুতোও দেখান।
বিক্ষোভকারীদের রণংদেহী মূর্তি দেখে আর কোনও ঝুঁকি নেয়নি ইউনূসের পোষ্যভৃত্য বাংলাদেশ দূতাবাসের আধিকারিকরা। ফেরার সময়ে চোরের মতোই পিছনের দরজা দিয়ে হোটেলে ঢোকেন বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে (চ্যাথাম হাউজ) বক্তৃতা দিতে হাজির হন ইউনূস। ওই সময় কয়েকশো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী প্রেক্ষাগৃহের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা ‘ইউনূস গো ব্যাক’ ও ‘ইউনূস পদত্যাগ করো’ স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল একাধিক প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভকারীদের হাতে ইউনূস হেনস্থা হতে পারেন এমন আশঙ্কায় তাকে পিছনের দরজা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে যাওয়া হয়।