আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইজরায়েলি বাহিনী মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এবং উত্তর গাজা শহরের আল-মিনা এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনিকে নিহত।এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
হামাসের তরফে জানানো হয়েছে যে, ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর যে দাবি করেছিল তাঁদের যোদ্ধারা নুসিরাতের ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) পরিচালিত একটি স্কুলে উপস্থিত ছিল তা পুরোপুরি মিথ্যে। তাঁদের যোদ্ধারা সেখানে ছিলই না। হামাস আরও জানায় যে, আল-জাউনি স্কুলে ইজরায়েলি হামলায় ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছে।
হামাস আরও জানিয়েছে যে, গাজা শহরের শুজাইয়া আশেপাশে যুদ্ধ এখনও বন্ধ করে নি ইজরায়েল। ইজরায়েলি হামলার ফলে অনেক পরিবারের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।নিহত হচ্ছে বহু মানুষ।কিন্তু তা স্বত্তেও ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল।
অন্যদিকে গাজায় হামাসের হামলার ৯ মাসের পূর্তি উপলক্ষে ‘বিরতি দিবস’ উদযাপন করছে ইজরায়েল। ইজরায়েলের প্রতিবাদী গ্রুপের কর্মীরা গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজে এসে উপস্থিত হন। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রবিবার(৭ই জুলাই) গাজা সীমান্তের কাছে ইজরায়েল কর্মীরা কালো এবং হলুদ বেলুন দিয়ে সাজিয়েছে গাজা সীমান্ত।
কর্মীদের আজ ইজরায়েলের তেল আবিবের কিরিয়া সামরিক সদর দফতর সহ গোটা এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা নতুন নাম দিয়েছে এই সপ্তাহের। তা হল ‘প্রতিরোধের সপ্তাহ’। শুধু তাই নয় বিক্ষোভকারীরা নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি গাজায় ইজরায়েলি বন্দী মুক্তির জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির আহ্বান জানাবে। এই অবস্থায় জীবিতদের অবিলম্বে দেশে ফেরানোর দাবি তুলেছে ইজরায়েলি জনতা।
কিন্ত ইজরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন সাড়া মেলেনি।যদিও বরাবরই ইজরায়েল সরকারের বক্তব্য ছিল, সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে তাঁরা রাজি, কিন্তু হামাসকে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত তারা পাকাপাকি ভাবে যুদ্ধ থামাবে না। অন্যদিকে গাজায় মৃত্যু-মিছিল আরও দীর্ঘ করতে চান না হামাস। তাই যুদ্ধবিরতির জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে ইজরায়েলকে। পাশাপাশি ইজারয়েলেও ক্ষিপ্ত হচ্ছে জনতা। তাঁদের দাবি অবিলম্বে বন্দিদের ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনা এবং এই যুদ্ধ বন্ধ করা। বেশ খানিকটা চাপের মুখে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই দেখার।