নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরাকে নিয়ে বিতর্ক কিছুতেই থামছে না। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে রীতিমতো ধুঁকতে হচ্ছে কুণাল কামরাকে। কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রেফতারি রুখতে মাদ্রাজ হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন কুণাল কামরা। আদালত তাঁকে আজ অর্থাৎ ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। এরপর কী হবে? কুণাল কামরার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রীতিমতো সাঁড়াশি নিয়ে তাঁর পিছু পড়ে রয়েছেন একনাথ শিন্ডের শিব সেনা কর্মীরা। পাশাপাশি তাঁদের মদত দিচ্ছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই মুম্বই পুলিশ তিনবার তলব করেছে কৌতুক অভিনেতাকে। কিন্তু প্রতিবারই প্রত্যাখ্যান করেছেন কামরা। এমনিতেও একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে কুণাল কামরার বিরুদ্ধে।
এবার কুণাল কামরা তাঁর ‘নয়া ভারত’ অনুষ্ঠান চলাকালীন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ মন্তব্যের জন্য দায়ের করা একাধিক এফআইআর বাতিলের দাবিতে বম্বে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হলেন। সোমবার (৭ এপ্রিল) বিচারপতি সারং কোতোয়াল এবং এসএম মোদকের বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করেছেন কামরার আইনজীবীরা। আবেদনে, স্ট্যান্ড-আপ অভিনেতা দাবি করেছেন যে, ‘আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত অভিযোগগুলি বাক স্বাধীনতার বিপক্ষে, যেকোনও পেশা ও ব্যবসা চর্চার অধিকার ভারতের সংবিধানের অধীনে রয়েছে, এবং জীবন ও স্বাধীনতার অধিকারের বিরোধিতা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।উল্লেখ্য, কামরা, বর্তমানে তামিলনাড়ুতে আছেন, তিনি সেখানকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। তাই গত মার্চে এই বিষয়ে তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, এরপর মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দিয়েছিলেন ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। মেয়াদ ফেরোতেই এবার এফআইআর বাতিলের জন্যে এবার মুম্বই হাইকোর্টে দ্বারস্থ হলেন কামরা। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে তিনবার সমন জারি করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনি একবারও মুম্বই পুলিশের সামনে হাজিরা দেননি।
কুণাল কামরার ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল?
গত মাসে কামরা তাঁর ইনস্টাগ্রামে নতুন স্ট্যান্ড-আপ ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। মুম্বইয়ের হ্যাবিট্যাট স্টুডিওতে ‘নয়া ভারত’ নামক একটি শোয়ে পারফর্ম করেছিলেন কুণাল কামরা। সেখানেই তিনি ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-এর ভোলি সি সুরত, গানের আদলে একটি প্যারোডি রচনা করেছিলেন। সেখানেই রসিকতা করে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের চলনবলন, কথাবার্তা এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানারকম মন্তব্য করেন অভিনেতা। যদিও সবটাই তাঁর নাম না করে। শেষে উপমুখ্যমন্ত্রীকে গদ্দার বা বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করেন তিনি। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই একেবারে কোমরে গামছা বেঁধে মাঠে নামেন একনাথ শিন্দের দলীয় লোকজন। অভিনেতার হ্যাবিট্যাট স্টুডিওতে তাণ্ডব চালায় শিবসেনা কর্মীরা। এবং স্টুডিওর একাংশ ভেঙে ফেলে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। এরপর থেকেই দেশজুড়ে কুণাল কামরার বিরোধিতা করছেন লোকজন। আর সেই সুযোগেই কুণাল কামরার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে FIR দায়ের করেন বিজেপির নেতৃবৃন্দ। যদিও হাল ছাড়ার পাত্র নন কুণাল কামরা। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কামরা বলেছিলেন, “একটি বিনোদন স্থান কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম। সব ধরণের অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্থান। হ্যাবিট্যাট আমার কমেডির জন্য দায়ী নয়, এবং আমি যা বলি বা করি তার উপর এর কোনও ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণ নেই।” আসলে ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের জন্যেই শিবসেনা দল বিভক্ত হয়ে যায়। এবং বিজেপিতে যোগ দেন একনাথ শিন্ডে। তাই তাঁকে গদ্দার বলে সম্বোধন করেছেন কুণাল কামরা। কুণালের বাক স্বাধীনতার সমর্থন করেছেন একাধিক নেতারা।