নিজস্ব প্রতিনিধি: বড় স্বস্তি! ‘গদ্দর’ বিতর্কে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরার বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের আবেদন গ্রহণ করল বোম্বে হাইকোর্ট। পাশাপাশি কুণাল কামরার আবেদন বিচারাধীন থাকাকালীন তাঁকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দিল আদালত। গত মার্চে একটি কমেডি শো চলাকালীন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে রসিকতা করেন কুণাল কামরা। নাম না করেই তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীকে ‘গদ্দার বা বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন। কেননা ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের জন্যেই শিবসেনা দল বিভক্ত হয়ে যায়। এবং একনাথ বিজেপির সঙ্গে হাত মেলায়। সেটাকেই উপহাস করে একনাথ শিন্ডেকে গদ্দার বলেন কুণাল কামরা।
এরপর থেকেই কোমরে গামছা বেঁধে কুণাল কামরার পেছনে পড়ে রয়েছেন মহারাষ্ট্রের শাসকদল। বিতর্কিত পর্বের ভিডিওটি ভাইরাল হতেই শিবসেনা কর্মীরা মুম্বইয়ের হ্যাবিট্যাট স্টুডিও ভাঙচুর করে। এবং কুণাল কামরার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়। মুম্বই পুলিশ তাঁকে ৩ বার তলব করলেও তিনি হাজিরা দেননি। বরং গ্রেফতারি রুখতে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানান। আজ কৌতুকশিল্পীর সেই আবেদনই গ্রহণ করল আদালত। কুণাল কামরার বিরুদ্ধে প্রথম FIR দায়ের করেছিলেন বিধায়ক মুরজি প্যাটেল।
এদিন বিচারপতি সারং কোতোয়াল এবং বিচারপতি এসএম মোদকের হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছেন যে, ‘কুণাল কামরার আবেদন বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই, কামরার আবেদনের বিচারাধীন থাকাকালীন, যদি পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে, তাহলে ট্রায়াল কোর্ট তার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেবে না। আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত স্থগিত থাকবে। প্রাথমিক পর্যায়ে, হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’ এই মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, কামরা কোনও রাজ্যের সিদ্ধান্তকে লক্ষ্য করে নয়, বরং একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে তার চেহারা এবং অতীত নিয়ে মজা করছেন। শিল্প ও ব্যঙ্গ একটি “অর্থপূর্ণ মানব জীবনের” জন্য অনেক মূল্যবান।