নিজস্ব প্রতিনিধি: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে মজা করার জন্যে সাজা পেতে হয়েছে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরাকে। একটি কমেডি শোয়ে একনাথ শিন্ডের নাম না করেই তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অপমান করেছিলেন কমেডিয়ান। আর এতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে। কমেডিয়ানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে এই শোটি করেছিলেন, সেই স্টুডিয়োও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় শিবসেনারা। যাই হোক, এই ঘটনার রেশ কেটেছে অনেকদিন। এরপরেও কেন্দ্রীয় নানা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কৌতুক ভিডিও বানিয়েছেন তিনি। এবার মহারাষ্ট্র সরকারকে কটাক্ষ করে আরও একটি ভিডিয়ো বানালেন কুণাল কামরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সোশ্যাল মিডিয়ায় মহারাষ্ট্রের বিধানসভার একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, বিজেপি বিধায়ক গোপীচাঁদ পাদালকর এবং এনসিপি (শারদ পাওয়ার গ্রুপ) বিধায়ক জিতেন্দ্র আওহাদের সমর্থকদের বিধানসভার ভেতরেই সহিংস সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্যে দুই দলের সমর্থকদের একে অপরকে টানাটানি এবং ঘুষি মারতেও দেখা যায়। মহারাষ্ট্র বিধানসভার এই হট্টগোলের ভিডিওটি ঝড়ের বেগে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। বিধানসভার ভিতরে দুই দলের এমন ঝামেলা দেখে মহারাষ্ট্র সরকারকে আবারও কটাক্ষ করতে পিছু হঠলেন না কুণাল কামরা। তিনি আবারও মহারাষ্ট্র সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর কুখ্যাত ‘হাম হোঙ্গে কাঙ্গাল’ ব্যঙ্গাত্মক গানটি গাইতে শুরু করলেন। যেটি নিয়ে গত মার্চ মাসে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝগড়ার একটি ভিডিও এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ক্লিপ শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন “আইন ভঙ্গকারী”।
পটভূমিতে ‘হাম হোঙ্গে কাঙ্গাল’ গেয়ে আবারও ব্যঙ্গ করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে। আসলে গত মার্চ মাসে, কামরা মুম্বইতে ‘নয়া ভারত’ শিরোনামে একটি স্ট্যান্ডআপ শোয়ে মহারাষ্ট্র সরকারকে নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্গাত্মক গান গেয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এই গানের মাধ্যমে রাজ্যের অনাচারের কথাও তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি শিবসেনার একেবারেই ভালো লাগেনি। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। শিবসেনা কর্মীরা তাঁকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন, কিন্তু কৌতুকাভিনেতা স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সার্কাসকে নিয়ে মজা করা আইনবিরোধী নয়। আমি এই জনতাকে ভয় পাই না এবং আমি আমার বিছানার নীচে লুকিয়ে থাকব না, এটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকব না। এই বিতর্কিত ঘটনার পর আবারও বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক গোপীচাঁদ পাদালকর এবং এনসিপি (শারদ পাওয়ার গ্রুপ) বিধায়ক জিতেন্দ্র আওহাদের সমর্থকদের আইন ভাঙাতে গর্জে উঠলেন কুণাল কামরা।