নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: পহেলগাঁও হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিবিধ পদক্ষেপ করেছে। তার মধ্যে একটি হল যে সব পাকিস্তানি ভ্রমণ, চিকিৎসা বা অন্য কোনও কারণে ভারতে এসেছিলেন তাদের আবার পাকিস্তানে ফিরে যেতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে এই প্রত্যাবর্তন স্রোত আছড়ে পড়েছে আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে। যারা চিকিৎসা ভিসায় এসেছিলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা সমাপ্ত না করেই ভারত থেকে অনেকে ফিরে গিয়েছেন পাকিস্তানে। তেমনই এক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পাকিস্তানি কিশোর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে তাঁর মাকে করাচিতে তাদের সঙ্গে যেতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।
কিশোরের নাম আয়ান। তার মা এবং মাসির ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে। আয়ানের অভিযোগ, তার মা এবং মাসিকে পাকিস্তানে ফিরে যেতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু পিতৃপরিচয়ের জন্য আয়ানকে করাচিতে ফিরে আসতে হয়েছে। অথচ ভারতে তারা গিয়েছিল আয়ানের চিকিৎসার জন্যই।
১৬ বছর বয়সী আয়ানকে সোমবার লাহোর থেকে ফিরে আসার সময় করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে নামিয়ে স্ট্রেচারে শুইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরিবার আসে ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে।
“আমি ইন্দ্রপ্রস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলাম। সেখানে ডাঃ সুধীর কুমারের অধীনে চিকিৎসা চলছিল আমার। কিন্তু পহেলগাঁও ঘটনার পর আমাদের সকলকে অবিলম্বে পাকিস্তানে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল।”- জানিয়েছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কিশোর।
আয়ানের সঙ্গে তার বাবা-মা, ভাই, কাকা এবং খুড়তুতো ভাইয়েরা দিল্লিতে এসেছিল। গত বছর একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে পুলিশের একটি গুলি আয়ানকে নিম্নাঙ্গে লাগে। তখন থেকে শরীরের নিচের অংশ কিশোরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত।
জানা গিয়েছে আয়ানের মামারবাড়ি ভারতে। তার বাবা হালিম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমার স্ত্রী ভারতের অধিবাসী। আমাদের বিয়ের পর তিনি করাচিতে চলে আসেন। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর আমরা যখন ফিরে আসছিলাম, তখন আমার স্ত্রী ও তাঁর বোনের ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল। কিন্তু সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাঁদের বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে আসতে দেয়নি।” এখনও পর্যন্ত আয়ানের চিকিৎসাও সম্পূর্ণ হয়নি, অথচ তাদের ফিরে যেতে হয়েছে।
এদিকে, পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভিসা বাতিলের কারণে বহু পাকিস্তানি সফর সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। গত ছয় দিনে ১,০০০ জনেরও বেশি ভারতীয় ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান ছেড়েছেন। একইভাবে সোমবার পর্যন্ত ৮০০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি দেশে ফিরে গিয়েছেন।
এক সরকারি কর্মকর্তা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী ভিসাধারী ব্যক্তিরা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। রবিবার ২৩৬ জন পাকিস্তানি দেশে ফিরেছেন এবং ১১৫ জন ভারতীয় এদেশে প্রবেশ করেছেন।
ওয়াঘায় পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তবেই অভিবাসনের অনুমতি দিচ্ছেন।