আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। কোনও দেশই পিছু হটতে রাজি নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত, সকলেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প আলাস্কায় রুশ রাষ্ট্রপ্রধান ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তার পরে তিনি ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও দেখা করেছেন। তবে, উভয় বৈঠক থেকে নিষ্পত্তির উপায় মেলেনি। যুদ্ধ শেষ করার বিষয়েও কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবার রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ভবনে আক্রমণ চালিয়েছে। ইউক্রেন জানিয়েছে যে রাশিয়া কিয়েভে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। তাতে কমপক্ষে ১৪ জন মারা গিয়েছেন, ৪৮ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা x হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বলেছেন যে রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে তিন জন শিশুও রয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভবন সহ অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই রুশ হামলার নিন্দা কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নয়, বিশ্বব্যাপী প্রয়োজন।’ ইউক্রেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতি আন্তোনিও কস্তাও এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি শেয়ার করে তিনি x-এ লিখেছেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার আরও এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমি আতঙ্কিত। রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছে নেই। নতুন করে বারবার আক্রমণ শুরু করছে। কিয়েভে রাতারাতি কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবাসিক এলাকা, অফিস কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনে ইইউ প্রতিনিধিদলের বসবাসের জন্য তৈরি ভবনটিও। এখন বিশ্বের জোরালোভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া যা শুরু করেছে তাতে তাদের এই যুদ্ধ চালাতে দেপ্যা যায় না”
হতভম্ব, ক্রুদ্ধ জেলেনস্কি বলেন, “যুদ্ধবিরতি অস্বীকার এবং আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এই প্রচেষ্টা বন্ধ করার জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন। কেবল সেই নিষেধাজ্ঞাই রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মস্কো কেবল শক্তি এবং চাপ বোঝে। প্রতিটি আক্রমণের জন্য মস্কোকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ X-এ পোস্ট করে দাবি করেছেন, “ইউক্রেনে এক রাতে ৬২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে, এটিই রাশিয়ার শান্তির ধারণা। সন্ত্রাস এবং বর্বরতা। শিশু সহ ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আবাসিক এলাকা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্স এই অর্থহীন এবং নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। ইউক্রেনীয় জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং সমস্ত শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইল।”
আক্রমণ সম্পর্কে রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে যে মস্কো তার সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করেছে। তারা হাইপারসনিক ‘কিনজাল’ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নির্ভুল বিমান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেনীয় নজরদারি জাহাজে আক্রমণ করেছে। এর সঙ্গে ইউক্রেনীয় সামরিক ঘাঁটি এবং বিমানবন্দরগুলিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ান সেনাবাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের নালেপিভকা দখল করার দাবিও করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘এই ইচ্ছাকৃত রুশ আক্রমণে যাদের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনীয় ক্ষতিগ্রস্তদের এবং সেখানকার কর্মচারীদের প্রতি আমার সমবেদনা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতে ভীত হবে না, বরং রাশিয়ার আগ্রাসনের শিকার ইউক্রেন এবং তার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আমাদের যে সংকল্প তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।’ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপীয় নেতারা প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে সমর্থন করছেন। সম্প্রতি, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময়, অনেক ইউরোপীয় নেতাও জেলেনস্কির সঙ্গে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছিলেন।
সম্প্রতি, রাশিয়া ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে ৫০০ টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই প্রথমবারের মতো সংঘাতের সময় ইউক্রেনের পশ্চিম প্রান্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলি থেকে ইউক্রেন সাহায্য পাচ্ছিল। রাশিয়া সেই সাহায্যের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পশ্চিমাঞ্চলকে বেছে নিয়েছিল। এই হামলায় একটি আমেরিকান ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।