নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তরাখণ্ড: এই সময়টায় ভারত জুড়ে চলে চারধাম যাত্রা। কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের পরিস্থিতির কারণে এবার সেই দৃশ্যের দেখা মিলছে না। এমনিতে অক্ষয় তৃতীয়া থেকে খুলে গিয়েছে চারধামের দরজা। কিন্তু সদ্য যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার কারণে মানুষ যেন পূণ্যার্জনে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না।
প্রথম দুই সপ্তাহে উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। একটি প্রতিবেদন বলছে, যাত্রী সংখ্যা ৩১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে জনসাধারণের উদ্বেগ এবং ভ্রমণ নিরাপত্তাহীনতার কারণে এই হ্রাস ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেরাদুনের পরিবেশ সংস্থা এসডিসি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে, ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৬,৬২,৪৪৬ জন তীর্থযাত্রী কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, যমুনোত্রী এবং গঙ্গোত্রী ধাম পরিদর্শন করেছেন। গত বছরের একই সময়ে (১০ মে থেকে ২৩ মে, ২০২৪) ৯,৬১,৩০২ জন তীর্থযাত্রী চারধাম যাত্রায় এসেছিলেন। অর্থাৎ প্রায় তিন লক্ষ যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
এসডিসি ফাউন্ডেশনের প্রধান অনুপ নৌটিয়াল বলেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মানুষের ভ্রমণ অনুভূতি এবং আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং রাজস্থান থেকে তীর্থযাত্রীদের আসা যাওয়া ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।” তিনি এও বলেন যে, আন্তঃরাজ্য চলাচল এবং দলগত ভ্রমণ চারধাম যাত্রার উপর বড় প্রভাব ফেলে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাহত হয়েছে। তবে অনুপ নৌটিয়াল আশা প্রকাশ করেছেন যে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারধাম যাত্রার গতিও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি উত্তরাখণ্ড সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যে, তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত সকল অংশীদারদের যেমন জেলা প্রশাসন, মন্দির কমিটি, হোটেল মালিক, খচ্চর পরিষেবা প্রদানকারী, ভ্রমণ সংস্থা, ব্যবসায়ী সমিতি এবং স্থানীয় সংস্থাগুলিকে নিয়ে অবিলম্বে একটি সভা ডাকা হোক এবং ভ্রমণ ব্যবস্থা উন্নত করা হোক।