নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের মাটিতে মৃত্যু হল এক জঙ্গি নেতার। শীর্ষ জইশ কমান্ডার মৌলানা আবদুল আজিজের রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে নিজের দেশেই। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর থেকে উদ্ধার হয়েছে তার দেহ। এই বাহাওয়ালপুরেই জইশের সদর দফতর। আর ভারতের করা অপারেশন সিঁদুর অভিযানে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল এখানকার সমস্ত জঙ্গি ঘাঁটি। ভারতবিরোধী বক্তব্য পেশের জন্য পরিচিত ছিল আজিজ। ফলে তার মৃত্যু ঘিরে ঘণীভূত হয়েছে রহস্য।
বিবিধ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসেই এক জনসভায় ভারত বিরোধী বক্তব্য পেশ করে মৌলানা আবদুল আজিজ। ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে আবদুল দাবি করেছিল, ভারতের হালও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো হতে চলেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে ভেঙে গিয়েছিল ভারতও সেইভাবেই ভেঙে যাবে।
মঙ্গলবার ভোরবেলা তার দেহ উদ্ধার হয়। ঠিক কারা এই হত্যার নেপথ্যে রয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, অজ্ঞাত পরিচিতের গুলিতে নিহত হয়েছে এই সন্ত্রাসী। পরে জইশের ‘চোরা’ সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি থেকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গুলিতে মৃত্যুর গুঞ্জন। তবে কীভাবে মৃত্যু তাও জানানো হয়নি।
জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাহাওয়ালপুরেই কবরস্থ করা হয়েছে জইশ কমান্ডারকে। বাহাওয়ালপুর, রাওয়ালপিন্ডির মতো এলাকায় নিয়মিত পাক যুবাদের ভারতবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে উসকানি দিতে দেখা যেত আবদুলকে। সেই সঙ্গে তাদের জঙ্গি হয়ে উঠতেও উৎসাহ প্রদান করত সে।
এহেন আবদুলের মৃত্যুতে জঙ্গি নেটওয়ার্ক যে অনেকটা ছিন্ন হল তাতে নিশ্চিত শুভচিন্তকরা। অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীর মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ জইশ কমান্ডারের খতম হওয়ার ঘটনা যে আরও একটি বড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।