নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: নির্লজ্জতার সীমা পেরোল পাকিস্তান। ভারতের কাছ থেকে কার্যত এত ‘মার’ খেয়েও তাদের কোনও উন্নতি নেই। ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে তারা আবারও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছে। শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) সামনের পোস্টগুলি পরিদর্শন করে সেখানে মোতায়েন পাক সেনার সঙ্গে দেখা করেছেন। মুনির তাঁর সেনাদের ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) কর্তৃক জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে জেনারেল মুনির সেনাদের মনোবল, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং সতর্কতার প্রশংসা করেছেন।
ভারতকে ‘যোগ্য জবাব’ দেওয়ার দাবি
বিবৃতি অনুসারে, জেনারেল মুনির তার সৈন্যদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে পাকিস্তান ভারতকে ‘যোগ্য জবাব’ দিয়েছে। মুনিরের মন্তব্য ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে।
কাশ্মীর নিয়ে আবার পুরনো সুর
জেনারেল মুনির নিয়ন্ত্রণ রেখা পরিদর্শনের সময় আবারও কাশ্মীর সমস্যা উত্থাপন করেন। তিনি পাকিস্তানের তথাকথিত ‘নীতিগত অবস্থান’ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কাশ্মীরি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। মুনির বলেন যে কাশ্মীরি জনগণের ন্যায্য ও সাহসী সংগ্রাম কখনওই ভোলা যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের সমাধান সেখানকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব অনুসারে করা উচিত।
এটিই প্রথমবার নয় যে পাকিস্তান ধর্মীয় বা সামরিক অনুষ্ঠানে কাশ্মীর সমস্যা উত্থাপন করেছে। বাস্তবে, কাশ্মীর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতিতে একটি স্থায়ী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যখন দেশ অভ্যন্তরীণ সংকট বা আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি হয় তখনই কাশ্মীর প্রসঙ্গ উঠে আসে।
ভারতের স্পষ্ট অবস্থান
ভারত বারবার স্পষ্ট করে বলেছে যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ সর্বদা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। আন্তর্জাতিক মনোভাবও এখন ভারতের অবস্থানের পক্ষে বলে মনে হচ্ছে।
পহেলগাঁও আক্রমণ এবং ভারতীয় প্রতিশোধ
২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং ১ স্থানীয় পনিচালক নিহত হন। এর পর, ৭ মে ভারত পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ চালায়।
চার দিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। অবশেষে, ১০ মে, উভয় দেশের সামরিক অভিযানের ডিজিএমও মধ্যে আলোচনার পর যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছায়।